উন্নয়নের মূলধারা থেকে বাদ পড়ে গত এক দশকে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বড় অংশ ‘দুষ্টচক্রে’ বন্দি হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের কাছে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সেবার কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এর প্রভাব পড়ছে জাতীয় উন্নয়নেও। ওই জনগোষ্ঠীর অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব হবে না।
বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী দিনে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন : সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো ও এসডিজি’ শীর্ষক সেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) যৌথ উদ্যোগে এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, এসডিজি অর্জনের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা। গত এক দশকে গোষ্ঠীগুলো সামগ্রিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ে এক ধরনের ‘দুষ্টচক্রে’ বন্দি হয়ে পড়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষকে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার। তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও উপযুক্ত পুনর্বাসনের আওতায় আনা হচ্ছে।
দেশের প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে প্রান্তিক মানুষের উৎপাদনশীলতা ও আয় বাড়বে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। এসডিজি বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানুষের সুপ্ত ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অর্থনীতির শ্বেতপত্রে প্রবৃদ্ধির উচ্চহারের বিপরীতে কর্মসংস্থানের যে চিত্র পাওয়া গেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশের শ্রমবাজারে কর্মক্ষমদের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ বাড়লেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ মানুষের। এত প্রবৃদ্ধি অর্জনের পরও যুবসমাজের মধ্যে প্রতি চারজনে একজন বেকার রয়ে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে পারিবারিক সুশিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা ও উদ্যোক্তা হওয়ার যোগ্যতা তৈরিতে নজর দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য দুপুরের খাবার বা মিড-ডে মিল এবং একই স্কুল ড্রেসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গ্রামের অবহেলিত স্কুলগুলোয়ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
এসডিজি অর্জনে বিগত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এম ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, তারা উন্নয়ন বা সমাজ সংস্কারের চেয়ে ব্যাংক লুটপাট, প্রশাসনে দলীয়করণ এবং সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টির মতো কাজে বেশি ব্যস্ত ছিল।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, বিগত বছরগুলোয় অনেক বিচ্ছিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যার কোনো হিসাব নেই। বর্তমানে জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সঠিক তথ্য উপস্থাপন ছাড়া এসডিজি অর্জন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. মনজুর হোসেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুল আওয়াল বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাসও হয়নি। একটি স্বার্থান্বেষী মহল কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরি করে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।