ছুটির দিনের সকালে দেশের দুই জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। বগুড়া ও সিলেটে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর থেকে সকাল ৭টার মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
সকালে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই আট যাত্রী নিহত হন। গুরুতর আহত তিন বছর বয়সী এক শিশুকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। নিহতদের মরদেহ হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসমানীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদিন।
অন্যদিকে, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। পরে সড়কের পাশে কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর উঠে যায় বাসটি। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন গাইবান্ধার আমিরুল, নূর আলম ও বেলাল এবং জয়পুরহাটের তাজমুল।
বগুড়া সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শফিকুল ইসলাম শফিক জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকজনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক।
এদিকে বগুড়ার দুর্ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে ওই সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
শীর্ষনিউজ