Image description
মাহফুজ আনাম
মাহফুজ আনাম
 

আমরা বাংলাদেশিরা গণতন্ত্রকে ভালোবাসি, লালন করি এবং এর জন্য সংগ্রাম করি। কিন্তু, বারবার গণতন্ত্রকে টেকসই করে তুলতে ব্যর্থ হয়েছি। সদ্য আমরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করলাম। এই অভ্যুত্থান নানা দিক থেকেই ছিল অনন্য। এটি ছিল সর্বব্যাপী, তৃণমূলভিত্তিক ও তারুণ্যনির্ভর।

নিপীড়নমূলক শাসনের বিরুদ্ধে আমাদের শিক্ষার্থী ও তরুণদের রুখে দাঁড়ানোর ইতিহাস দীর্ঘ ও গৌরবময়। পঞ্চাশের দশকে বাংলাকে পাকিস্তানের দুই রাষ্ট্রভাষার একটির মর্যাদা এনে দিয়েছিল তরুণরাই। তারাই আইয়ুব শাসনের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে হারিয়ে দেয়া মুক্তিবাহিনীর অন্যতম শক্তি ছিল এই তরুণেরা। স্বাধীনতার পর তারাই জেনারেল এরশাদের শাসনের অবসান ঘটায় এবং সর্বশেষ শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটায়। এসব আন্দোলনে তরুণদের উদ্যম, দূরদৃষ্টি ও দেশপ্রেম প্রমাণ করে যে, নিপীড়নমূলক শাসনব্যবস্থা ভেঙে দিতে নতুন প্রজন্মের অদম্য স্পৃহা কখনো নিঃশেষ হয় না।

কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হতে না হতেই আমাদের রাজনৈতিক নেতারা আবারও পারস্পরিক দ্বন্দ্বে ফিরে গেছেন। পরস্পরকে নিরন্তর দুষছেন। ফলে, দিনকে দিন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, এত তাড়াতাড়ি যদি দেশের রাজনীতি সেই পুরোনো ধারাতেই ফিরে যায়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ কী?

প্রশ্ন হলো, আমাদের রাজনৈতিক নেতারা কেন মানুষের মধ্যে এই হতাশা তৈরি করছেন? যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন উদযাপন করার কথা, সেখানে সরকার ও বিরোধীদলগুলোর বাকযুদ্ধ চলছে। আর এ সবকিছুই অস্বস্তি সৃষ্টি করছে দেশের মানুষের মধ্যে। এই মুহূর্তে আমাদের উচিত ছিল একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেদের অভিনন্দন জানানো। কিন্তু তার পরিবর্তে আমরা এমন কথা বলছি বা এমন ইঙ্গিত দিচ্ছি, যা অপ্রয়োজনীয় এবং আত্মঘাতী সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।

গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব পরিস্থিতি তৈরি করে তারা নিজেদের অজান্তেই পতিত, পরাজিত, পলাতক স্বৈরাচারের পুনর্বাসনের পথ সুগম করছে কি না, সেটি মনে হয় ভেবে দেখা প্রয়োজন আমাদের।’

আমরা কি সত্যিই অস্থিরতার দিকে এগোচ্ছি? পরাজিত স্বৈরাচারী শক্তির ফিরে আসার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা কি আছে? আমাদের বিশ্বাস, এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা যথেষ্ট প্রস্তুত এবং নিকট ভবিষ্যতে এমন কিছু ঘটার সম্ভাবনাও অত্যন্ত ক্ষীণ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করে অযথাই নিজের অবস্থানকে দুর্বল করছেন।

অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির জুলাই জাতীয় সনদ এবং এতে প্রতিশ্রুত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে বিলম্বের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘দেশের বারোটা বাজবে, আর আমরা কি বসে বসে আঙুল চুষব।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, আরেকটি বিপ্লব আসন্ন। এই বিপ্লবের জন্য আমি আপনাদের সবাইকে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

নির্বাচিত বিরোধীদলীয় নেতা যখন বলেন ‘দেশের বারোটা বাজছে’, তখন আমাদের ভাবনায় কী আসবে? এটি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। যে ‘দেশের বারোটা বাজছে’, সেখানে কেউ কেন বিনিয়োগ করতে আসবে? দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আমরা কীভাবে অর্জন করব? এ ধরনের বক্তব্য কি আমাদের প্রতিপক্ষের মুখে হাসি ফোটায় না? আমরা ভুল পথে এগোচ্ছি—প্রতিপক্ষের এমন দাবিকে আরও শক্তিশালী করে না?

বিরোধীদলীয় নেতার পূর্বাভাস যদি সত্যের কাছাকাছিও হতো, তাহলে কি দক্ষিণ কোরিয়া আমাদের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সই করত? কিংবা জাপানও কি এই কিছুদিন আগেই একই রকম আরেকটি চুক্তি করত?

সামান্য জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য আমরা কীভাবে নিজেদের অগ্রগতির সম্ভাবনাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করি, তারই দুঃখজনক কিন্তু বাস্তব উদাহরণ এগুলো।

আমার আগের কলামে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলাম। দুঃখজনকভাবে, সেই প্রবণতা শুধু অব্যাহতই নেই, বরং আরও সহিংস রূপ নিয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতের ছাত্রসংগঠনগুলো সরাসরি সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে। গত মঙ্গলবার বিভিন্ন জেলার চারটি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে অন্তত ৯০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব বিরোধ এড়ানো সম্ভব ছিল এবং সংলাপের মাধ্যমে অবশ্যই সমাধান করা যেত। কিন্তু তা না করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার এই প্রবণতা সহিংসতার প্রতি এক ধরনের মানসিক ঝোঁকই প্রকাশ করে। এর ফলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা আরও কমবে এবং অতীতে যেভাবে বড় রাজনৈতিক দলগুলো পেশিশক্তিকে প্রশ্রয় দিয়েছে, সেই সংস্কৃতিই আরও শক্তিশালী হবে। এর পরিণতিতে ছাত্ররাজনীতি সেই গঠনমূলক ও জাতি গঠনের ভূমিকায় ফিরে যেতে পারবে না, যা আমরা একসময় দেখেছি।

সক্রিয় রাজনীতিতে নেই এমন সাধারণ শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যেই ক্লাসে যেতে বা ক্যাম্পাসে থাকতে ভয় পাচ্ছেন, অনিরাপদ বোধ করছেন। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চিত্র এমন হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটাই হচ্ছে এবং বাড়ছে। অতীতে ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলের ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে যে দ্বন্দ্বের সংস্কৃতি ছিল, আমরা আবারও সেই ধারাবাহিকতাই দেখছি।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময়ে ৮৩০টি সহিংসতার ঘটনায় ৫৬ জন নিহত ও ৫ হাজার ২৪৬ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর মধ্যে ২৭৩টি সংঘর্ষ হয়েছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে, ২৯০টি বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে এবং ৩৩টি বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে।

এটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত।

আমরা যে বিষয়টি তুলে ধরতে চাই তা হলো, সহিংসতার পরিবর্তে শাসক ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আরও পরিণত ও তথ্যভিত্তিক আলোচনা হতে হবে। এই সময়ে আমাদের রাজনীতিবিদদের অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে অনেক বেশি গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করা উচিত। হ্যাঁ, ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীদের অনেকে অনেক সময় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কথা বলেন। কিন্তু সংসদীয় কমিটি কিংবা অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধীদলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে দেশের গভীর অর্থনৈতিক সংকট বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করার কোনো আন্তরিক উদ্যোগ আমরা দেখতে পাই না।

একইসঙ্গে বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদদেরও দায়িত্ব অনেক। সেখানে প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান কীভাবে এমন মন্তব্য করেন যে, ‘দাম বাড়ানোর অজুহাত তৈরি করতে সরকার কৃত্রিম গ্যাস সংকট সৃষ্টি করেছে’? গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে ১১-দলীয় জোট দেশব্যাপী বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে। এটা ‘জনপ্রিয়তাবাদী রাজনীতি’ ছাড়া আর কিছুই নয়।

আজকের এই দুনিয়ায় অর্থনীতি কীভাবে বিকশিত হয়, শিল্প কীভাবে পরিচালিত হয় এবং আমাদের রপ্তানিকারকরা কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন—এসব বিষয়ে আমাদের রাজনীতিবিদদের মৌলিক ধারণা থাকা আবশ্যক। কৃষি এখনো আমাদের পরিকল্পনায় অবহেলিত, অথচ এটি বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। কৃষির উন্নয়নে বায়ো টেকনোলজি ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অপরিহার্য উপাদান। আধুনিক অর্থনীতিতে ব্যাংকখাত সবচেয়ে উন্নত ও জটিল ক্ষেত্রগুলোর একটি। একইসঙ্গে এটাও গুরুত্বপূর্ণ যে প্রকল্প অর্থায়ন কীভাবে হয় এবং কীভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হয় সে বিষয়গুলো রাজনীতিকদের বিবেচনায় রাখা।

আমরা সাধারণত দক্ষতা দেখে মন্ত্রী নিয়োগ দিই না। রাজনৈতিক কারণে যদি এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতেই হয়, তাহলে যাকে যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেই বিষয়ে অবিলম্বে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা। মনে রাখতে হবে, আজকের দিনে রাষ্ট্র পরিচালনাও একটি বিজ্ঞান। এটি জ্ঞাননির্ভর ও বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক হতে হয়, বক্তৃতা বা বাগাড়ম্বরনির্ভর নয়। ভালো নীতি বাস্তবায়নে আমাদের দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থেকেই এই শিক্ষা নেওয়া উচিত।

বর্তমানে বাংলাদেশ ইতিহাসের অন্যতম কঠিন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। একটি সুস্থ অর্থনীতির কিছু মৌলিক ভিত্তি হাসিনা সরকারের আমলে ধ্বংস হয়ে গেছে, বিশেষ করে ব্যাংকখাত। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে তৃণমূল পর্যায়ে শৃঙ্খলাহীনতা ও মবতন্ত্রের বিস্তার আমাদের শিল্প উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান আক্রমণ জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত করেছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ছোট অর্থনীতিগুলো। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইরান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে জুনের মধ্যে জ্বালানি ও সার আমদানিতে অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

আজ আমরা কাঁচামাল সরবরাহ, শিল্প উৎপাদনের উপকরণের দাম এবং রপ্তানি বাজারের স্থিতিশীলতা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। তবে সর্বোপরি, জ্বালানির সংকটই আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৩ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাসও প্রায় একই।

গ্যাস সংকট, বেসরকারিখাতে দুর্বল বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। করোনা মহামারির পর এই প্রথম শিল্প উৎপাদন কমছে। শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ৭০০টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়েছে, যার ফলে কর্মহীন হয়েছে লাখো মানুষ।

ব্যাংকখাতের সংকট আরও গভীর হয়েছে। গত মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ঋণের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা টাকার অঙ্কে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি।

মূল্যস্ফীতি এখনো অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এর কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত কমছে। ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে টানা চার বছর ধরে গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৮ শতাংশের আশপাশে রয়েছে।

কাজেই, আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের উচিত বাংলাদেশের সামনে থাকা গুরুতর চ্যালেঞ্জগুলো উপলব্ধি করা, তাদের বক্তব্যে সংযম আনা এবং আরও বাস্তবসম্মত অবস্থান গ্রহণ করা। একইসঙ্গে পরামর্শ দেবো, বিরোধীদলকে আরও বেশি ক্ষমতা ও স্বাধীনতা দিতে হবে, যাতে তারা আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। একইসঙ্গে, যত বেশি স্বাধীনতা বিরোধীদল পাবে, তত বেশি দায়িত্বশীলও তাদের হতে হবে। তাদের অবস্থান হতে হবে আরও বাস্তবভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর।

বাংলাদেশের মতো ছোট অর্থনীতির দেশগুলো তো বটেই, প্রতিটি দেশের অর্থনীতি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে অনেক বেশি পরিণত, দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক রাজনৈতিক সংলাপ প্রয়োজন। আর তার জন্য জনপ্রিয়তানির্ভর বাগাড়ম্বরে অবশ্যই সংযত হতে হবে।

মাহফুজ আনাম: সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার