‘এত বছর ধরে শুধু অপেক্ষা করেছি, কবে বিচার হবে।’—২০১৮ সালের মে মাসে র্যাবের কথিত ক্রসফায়ারে টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুর ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এভাবেই ন্যায়বিচারের আশা প্রকাশ করেছেন তার স্ত্রী আয়েশা বেগম।
‘ক্রসফায়ারের’ সময় একরামুলের সঙ্গে পরিবারের শেষ কথোপকথনের অডিও ‘আব্বু, তুমি কান্না করতেছ যে...’ সারা দেশে আলোড়ন তৈরি করেছিল। পরিবার শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল, এটি কোনো বন্দুকযুদ্ধ ছিল না; একরামুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আয়েশা বেগম বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, ‘আমার জীবনের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে সেদিন। আমার সন্তানরা বাবাকে হারিয়েছে। আমি স্বামীকে হারিয়েছি। এত বছর ধরে শুধু একটা অপেক্ষা করেছি—কবে বিচার হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিশোধ চাই না। আমি শুধু চাই, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার হোক। কেউ যেন ক্ষমতার কারণে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারে। আমার স্বামীকে তো আর ফিরে পাব না। কিন্তু বিচার হলে অন্তত মনে হবে, রাষ্ট্র আমাদের কথাও শুনেছে।’
আয়েশা বেগমের ভাষ্য, গত আট বছরে তাকে অসংখ্যবার একই ঘটনার কথা বলতে হয়েছে। প্রতিবারই তাকে ফিরে যেতে হয়েছে সেই রাতের স্মৃতিতে। ‘অনেক কষ্ট হয়েছে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। আমি বিশ্বাস করেছি, একদিন সত্য বেরিয়ে আসবেই।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, একরামুল হত্যা মামলায় আইনি অগ্রগতি শুধু একটি ঘটনার বিচার নয়, একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচালিত অন্য কথিত ‘ক্রসফায়ার’-এর ঘটনাগুলো নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তোলার সুযোগ তৈরি করেছে।
তার মতে, প্রতিটি ঘটনাকে আলাদাভাবে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করা উচিত। কোনো বাহিনীর বক্তব্য বা পরিবারের অভিযোগ—কোনোটিকেই চূড়ান্ত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ফরেনসিক আলামত, ময়নাতদন্ত, সুরতহাল, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই প্রতিটি ঘটনার মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
দীর্ঘ আট বছর পর গত রোববার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। আইনি এই অগ্রগতির পর গত সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে ঘটনার সময় র্যাব-৭-এর অধিনায়ক থাকা তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।