১২টি প্রতিষ্ঠানে সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনের পদায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বুধবার (২৮ জুলাই) গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মিলনায়তনে ‘ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স’ আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অবদান রাখা চিকিৎসকদের স্মৃতিচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সমালোচনা করেন।
বক্তব্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ অভিযোগ করে বলেন, সরকার সম্প্রতি প্রায় ১২টি প্রতিষ্ঠানে প্রথা ভেঙে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। আমলাদের পাশাপাশি কারিগরি ও একাডেমিক জ্ঞানসম্পন্ন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের সুযোগ না দিয়ে এসব পদে দলীয় ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে। শিল্প বা বনবিষয়ক বোর্ডসহ যেসব সংস্থায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো অত্যন্ত বিশেষায়িত জায়গা। কিন্তু সরকার পদায়নের ক্ষেত্রে যোগ্যতার মূল্যায়ন করতে পারেনি। রাষ্ট্র ও সরকারকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের পুরস্কার বা ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিভিন্ন বোর্ডে বসানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব পদে এমন একজন সাবেক আমলাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি সরাসরি ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচন কমিটির সদস্য ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল জায়গায় একটি দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে থাকা ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সচিব বানানো হলে কমিশনকে শুরুতেই দলীয়করণ ও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এই বিতর্কিত কমিশনের অধীনে হতে যাওয়া আগামী দিনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিরোধী দল বা দেশের সাধারণ জনগণ মেনে নেবে না।
গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চিকিৎসকদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে নাহিদ ইসলাম দেশের সব রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।