Image description

রাজধানীর মিরপুরে দুই ছেলেকে নিয়ে সুখের সংসার ছিল মোহাম্মদ আলম নুরী (৩৭) ও খাদিজা খাতুন (৩৫) দম্পতির। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেই সুখের সংসারে হঠাৎ আঘাত হানে এক বিধ্বংসী ঝড়। আলম নুরীর শরীরে নন অ্যালকোহলিক লিভার ডিজিজ (এনএএলডি) শনাক্ত হয়। দ্রুত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য একদিকে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, অন্যদিকে প্রয়োজন ডোনারের। অন্ধকার নেমে আসে আলম নুরী ও খাদিজা খাতুন দম্পতির জীবনে। 

শেষমেশ স্বামীকে বাঁচাতে নিজের লিভারের অংশ দান করেন খাদিজা। প্রায় এক বছরের কঠিন লড়াই শেষে ২০২৫ সালের আগস্টে ভারতে সফল লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের পর নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন আলম নুরী। খাদিজার বাড়ি রাজশাহী শহরে। আলম নুরীর বাড়ি বান্দরবানের লামায়। তাদের দুই ছেলে কেএম আরিয়ান (৯) ও কেএম আদনান (৭)। 

আলম নুরী ও খাদিজা খাতুন বিএনসিসির দুই সাবেক ক্যাডেট। তাদের পরিচয় ২০১১ সালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সেন্ট্রাল ট্রেনিং এক্সারসাইজ (সিটিই) ক্যাম্পে। সেই পরিচয় থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক ২০১২ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ের মাধ্যমে পরিণতি পায়। আলম নুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষে বেসরকারি খাতে কাজ করেছেন। অন্যদিকে, খাদিজা খাতুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এর আইন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে পরিবার ও সন্তানদের লালন-পালনে নিজেকে নিবেদিত করেন। বর্তমানে এই দম্পতি দুই ছেলেকে নিয়ে বান্দরবানের লামায় বসবাস করছেন। 

বর্তমানে দুই সন্তানের সঙ্গে আলম নুরী ও খাদিজা খাতুন

গত বছরের ৮ নভেম্বর ‘স্ত্রীর ভালোবাসার লিভারে নতুন জীবন পেলেন স্বামী’ শিরোনামে আলম-খাদিজা দম্পতিকে নিয়ে ঢাকা পোস্টে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে চিকিৎসা করাতে তাদের এক বছরের লড়াই-সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়। তাদের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের এক বছর হতে চলেছে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন এই দম্পতি। তবে এখনো তাদেরকে নিয়মিত নানা মেডিকেল পরীক্ষা, ওষুধ ও নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে চলতে হচ্ছে। এই ধরনের রোগের চিকিৎসার আগের ও পরের জীবন সংগ্রাম নিয়ে নানা অভিজ্ঞতার কথা ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন এই দম্পতি। 

রোগ নির্ণয় থেকে অস্ত্রোপচার

২০২৪ সালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন আলম নুরী। সেপ্টেম্বরে বেশ কিছুদিন জ্বরে ভোগার পর ১২ সেপ্টেম্বর রাতে হঠাৎ রক্তবমি শুরু হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে নিয়ে ছোটেন সোহরাওয়ার্দীসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে। শেষে রক্তবমি না থামায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়, সেখানে ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান হারালে আইসিইউতে নেওয়া হয় তাকে এবং প্রায় ৯ ব্যাগ রক্ত-প্লাটিলেট দেওয়ার পর রক্তপাত বন্ধ হয়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিস তথা নন অ্যালকোহলিক লিভার ডিজিজ (এনএএলডি), যার একমাত্র সমাধান লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বলে জানান চিকিৎসকরা। 

চিকিৎসকদের নির্দেশনায় ৬ মাসের ভিসা-প্রতীক্ষা ও অর্থ সংগ্রহ শেষে ২০২৫ সালের মার্চে দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সার্জন ডা. সুভাষ গুপ্তার শরণাপন্ন হন তারা। সেখানে ডিএনএ ম্যাচিং, কাগজপত্র অ্যাপোস্টাইল ও ভিসা-জটিলতার মতো নানা বাধা পেরিয়ে অবশেষে মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি মেলে।  ৪ ও ৬ আগস্ট যথাক্রমে আলম নুরী ও খাদিজাকে হাসপাতালে ভর্তির পর ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ৩টায় প্রস্তুতি শেষে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় দুজনকে। সেখানে ভোর ৪টায় অজ্ঞান করা হয় তাদের। দুপুর সোয়া ১টায় খাদিজার এবং বিকেল সাড়ে ৫টায় আলম নুরীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। খাদিজার লিভারের ৬৪ শতাংশ সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হয় তার স্বামীর শরীরে। ৮ আগস্ট রাত আড়াইটায় জ্ঞান ফেরে আলম নুরীর।

ম্যাক্স হাসপাতালে ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য ২১ লাখ রুপি, যা ডালারে পেমেন্ট করে ভর্তি হতে হয় আলম ও খাদিজাকে। এর বাইরে তাদের ট্রান্সপ্ল্যান্ট পূর্ববর্তী চিকিৎসা, থাকা খাওয়া, ডকুমেন্টস প্রস্তুত করা, যাতায়াত, পরবর্তী ইনভেস্টিগেশন এবং ওষুধপত্র বাবদ আরও প্রায় ১৫-২০ লাখ রুপি খরচ হয়। চিকিৎসার পর এখন অনেকটা সুস্থ আলম নুরী। তবে তাকে নানা রুটিন ফলো করে চলতে হচ্ছে। 

কেমন আছেন আলম নুরী

অস্ত্রোপচারের এক বছর পর শারীরিক অবস্থা ও আগের জীবনের সঙ্গে বর্তমান জীবনের পার্থক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আলম নুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, মহান আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া। আল্লাহ যেন এই রোগ আর কাউকে না দেন। আমরা প্রত্যাশিতভাবে ভালো আছি এবং সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো আমি এখনো বেঁচে আছি। 

তিনি বলেন, রোগ নির্ণয় হওয়ার প্রথম এক মাস আমার স্ত্রীকে বাংলাদেশের কিছু চিকিৎসক ভুল তথ্য দিয়ে যে মানসিক ট্রমায় ফেলেছিলেন, সেই অসহায়ত্ব আর আজকের এই জীবনে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। আমি আর ১০টা মানুষের চেয়ে আলাদা। আমার রুটিন, খাবার, ঘুম, চলাফেরা, চিকিৎসা— সবই আলাদা। আমি একটা ছকেবাঁধা জীবন পার করছি। এ জীবন কেবল আল্লাহর ইচ্ছায় এবং সকলের সহযোগিতায় ফিরে পাওয়া। সারা জীবন এই আতঙ্কে কাটাবো যে এই বুঝি লিভার রিজেক্ট (প্রত্যাখ্যান) করল। 

আলম বলেন, তালিকাবহির্ভূত কোনো খাবার খেতে পারবো না, দীর্ঘক্ষণ বসে-শুয়ে-দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব নয়, আজীবন মাস্ক পরতে হবে। কিন্তু দিনশেষে আমি বেঁচে আছি, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ভালো আছি— এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে?

কাজে বা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার বিষয়ে আলম নুরী বলেন, একজন হেপাটাইটিস রোগীর করুণ পরিণতি হয় লিভার সিরোসিস-ক্যানসারে, সেখানে আমার ফিরে আসাটা মিরাকল। আত্মীয়-বন্ধুদের বেশির ভাগেরই ধারণা ছিল, আমার ফেরা অসম্ভব। আমার স্ত্রীর আত্মবিশ্বাস ছিল এমন—“যদি বেঁচে থাকার এক শতাংশ সুযোগও থাকে, আমি সেটাকে শতভাগ চেষ্টায় রাখব। এরপরও ফেরানো না গেলে সেটাকেই নিয়তি বলব, এর আগে নয়।” 

তিনি বলেন, আমি এখনো স্বাভাবিক হতে পারিনি। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত এক পয়সা আয় করতে পারিনি। আমাদের যা ছিল, সবই বিক্রি করেছি। এখন গ্রামে থাকি, খামার করার চিন্তা করছি। আমার স্ত্রী তার বাবার বাসায় যান না প্রায় তিন বছর, আমার সুস্থতার অপেক্ষায়। অপারেশনের ছয় দিনের মাথায় ৯ ইঞ্চি কাঁচা সেলাই নিয়ে তিনি আমার জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিজের রান্না করা খাবার নিয়ে যেতেন, নিজ হাতে খাইয়ে দিতেন। দিল্লির সেই হাসপাতালের চিকিৎসক-সেবিকারা সবাই অবাক হয়ে আমার স্ত্রীকে দেখতে এসেছিলেন। এ এক অনন্য ঋণ। 

অস্ত্রোপচারের আগে বিশ্বখ্যাত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন ডা. সুভাষ গুপ্তার সঙ্গে আলম-খাদিজা দম্পতি

অস্ত্রোপচার পরবর্তী ওষুধ ও খরচের বিষয়ে আলম নুরী বলেন, অপারেশনের টেবিল থেকে নামার পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমাকে ওষুধ খেতেই হবে, বাদ পড়লে জীবন হারানোর সম্ভাবনা শতভাগ। আমাকে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে রাখার একটি ওষুধ খেতে হয়, যাতে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ বেড়ে যায়। এই ওষুধে কিডনি বিকল হওয়া, রক্তে শর্করা বৃদ্ধি বা ক্যানসারের ঝুঁকিও থাকে। এছাড়া সম্পূরক হিসেবে আরেকটি রোগপ্রতিরোধ-দমনকারী ওষুধও নিতে হয়। সবমিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকার ওষুধ এবং ১১ হাজার টাকার পরীক্ষা লাগে। বিদেশ থেকে ওষুধ আনলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মোটা অঙ্কের শুল্ক ধরে বসে। আমার মতো একই রোগে আক্রান্ত পোশাক কারখানার এক কর্মকর্তা অতিরিক্ত খরচের কারণে ওষুধ চালিয়ে যেতে না পেরে ২০২৫ সালের শুরুতে মারা যান। 

শারীরিক জটিলতার বিষয়ে তিনি বলেন, হেপাটাইটিস রোগীর ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরবর্তী সবকিছুই জটিল। কোনো সংক্রামক রোগীর কাছে যেতে পারি না, ধুলাবালি-ময়লা এলাকা এড়িয়ে চলতে হয়। জীবাণুনাশক তরল ও মাস্ক আমার নিত্যসঙ্গী। সকালে খালি পেটে ওষুধ নিতে হয়, তারপরও এক ঘণ্টা পাকস্থলী খালি রাখতে হয়— রাতেও একই নিয়ম। এ সময় পরিবারের কেউ খায় না, এটা খুব কষ্টের। ভারতে আইসিইউতে থাকা অবস্থায় আমার লিভার তিনবার রিজেক্ট হয়ে যাচ্ছিল বলে হাসপাতাল থেকে দেওয়া ছাড়পত্রের সারাংশে জেনেছি। কিছু খাদ্য ও ফল আমার সারা জীবনের জন্য নিষিদ্ধ। জটিলতা সবকিছুতেই, তবে আমি মানিয়ে নিয়েছি— এটাই আমার স্বাভাবিকতা। 

অস্ত্রোপচারের পর দুই সন্তানের সঙ্গে আলম নুরীর জন্মদিন পালনের মুহূর্ত

এখন সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত ও আগামীর স্বপ্ন নিয়ে আলম নুরী বলেন, আমার সবচেয়ে আনন্দের সময় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে একসঙ্গে বসে গল্প করা। ছোট ছোট দুই ছেলেকে দেশে রেখে আমি ও আমার স্ত্রী প্রায় সাত মাস দেশের বাইরে ছিলাম। আমার বড় ছেলে অঝোরে কেঁদেছিল, আত্মীয়রা কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলেছিল— আল্লাহ কেন বৃষ্টি দিচ্ছে না! অপারেশনের ২৩ ঘণ্টা পর জ্ঞান ফেরার সঙ্গে সঙ্গে সেবিকার কাছে তারিখ-সময় জিজ্ঞেস করি, দুহাত তুলে আজান দিয়ে শুকরিয়া জানাই। চিকিৎসক আসার সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞেস করি, আমার স্ত্রী কোথায়, আমি দেখতে চাই। এখন দুই ছেলে দুই পাশে আর স্ত্রী সামনে বসে— তাদের সঙ্গে খাওয়াটাই আমার জীবনের আনন্দের মুহূর্ত। আমার স্বপ্ন— নিজের গ্রামে একটা দাতব্য চিকিৎসালয় চালাবো, সব ধরনের রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখবো। হায়াত থাকলে একটা ট্রাস্টের অধীনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবো। নিজেকে নিয়ে বিশেষ স্বপ্ন দেখি না, শুধু স্বপ্ন দেখি সুস্থ পৃথিবীর। 

যারা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের অপেক্ষায় আছেন— তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেকোনো ট্রান্সপ্ল্যান্ট একটি জটিল ও জীবনের হুমকিস্বরূপ প্রক্রিয়া। এতে অর্থের পাশাপাশি সাহস ও ধৈর্যের প্রয়োজন। প্রচুর আমিষ দরকার, না হলে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবেন না, হাত কাঁপবে, মাথা ঝিমঝিম করবে। তাই নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হলেও কিছু কাজ করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ নেবেন না। হেপাটাইটিস বা লিভার সিরোসিস হলে লাল মাংস এড়িয়ে চলুন, খাবার পরিমিত খান। হতাশ হবেন না, এখন থেকেই সচেতন হন। লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বয়স একটা বড় বিষয়— বয়স যত বাড়বে, ঝুঁকিও তত বাড়বে। এ দেশের কিছু চিকিৎসক চিকিৎসা পদ্ধতি বা খরচের সঠিক ধারণা না দিয়ে ভুল ধারণা দেন— আমার বেলায় ছিল নন-অ্যালকোহলিক ক্রনিক লিভার ডিজিজ। বিদেশে গিয়ে প্রতিস্থাপন করাতে যে টাকা যায়, তার অর্ধেক ভিসা, যাতায়াত ও থাকা-খাওয়া বাবদ ব্যয় হয়ে যায়। এই টাকার অর্ধেক দিয়ে দেশেই এর চেয়ে ভালো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। মন থেকে চাই, চিকিৎসার মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার সদিচ্ছা পোষণ করুক। আমার এ রোগ পৃথিবীর আর কারও না হোক। 

লিভারদাতা স্ত্রী সম্পর্কে আলম নুরী বলেন, যখন আমাদের বিয়ে হয়েছিল আমরা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার কারণে আমি থাকতাম ঢাকায়, আর ও রাজশাহীতে। সুযোগ পেলেই বাসে চেপে চলে যেতাম ওর ক্যাম্পাসে, শুধু কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটানোর জন্য। একদিন খুব সকালে ক্যাম্পাসে পৌঁছে দেখি লাইব্রেরির সামনে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলছে। ও তখনও ক্লাসে আসেনি। আমি একা একা প্রদর্শনী ঘুরে দেখছিলাম। হঠাৎ চোখ আটকে গেল একটি ছবিতে— বিএনসিসির পোশাক পরা আমার স্ত্রীর ছবি। ছবির নিচে লেখা, ‘Pride of Nation’। ওকে ডেকে ছবিটি দেখালাম। প্রথমে ও বিশ্বাসই করতে পারেনি। পরে জানতে পারি, ছবিটি ওকে না জানিয়েই একজন আলোকচিত্রী তুলেছিলেন। পরে তার সঙ্গে কথা বললে তিনি বিষয়টি জানাতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং প্রদর্শনী শেষে ছবিটি আমাদের হাতে তুলে দেন। সেই ছবিটি আজও আমাদের কাছে একটি অমূল্য স্মৃতি। আজ এত বছর পর ফিরে তাকিয়ে মনে হয়, সেই ক্যাপশনটি শুধু একটি প্রদর্শনীর শিরোনাম ছিল না— ও সত্যিই আমার কাছে ‘Pride of Nation’। ও খুবই শান্ত, নম্র আর নরম স্বভাবের মানুষ। কিন্তু অন্যায়ের সামনে কখনো আপস করে না। সাহস, সততা আর দায়িত্ববোধ— এই তিনটি গুণ ওকে আলাদা করে চেনায়। ভালোবাসার মানুষের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে পারে। আমার জন্য, আমাদের সন্তানদের জন্য এবং পুরো পরিবারের জন্য ও যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তার ঋণ কোনো দিন শোধ হওয়ার নয়।

কেমন আছেন স্বামীকে লিভারদাতা খাদিজা

নিজের লিভার দিয়ে স্বামীকে বাঁচিয়ে ভালোবাসার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন খাদিজা খাতুন। সকল বাধা পেরিয়ে এখন তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। স্বামীকে লিভারের অংশ প্রদান এবং পরবর্তীতে নানা প্রতিকূলতার বিষয়ে কথা বলেছেন খাদিজা খাতুন।

ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, শারীরিকভাবে ছোটবেলা থেকেই দুর্বল, সবসময় কোনো না কোনো অসুস্থতায় আক্রান্ত থাকি। জ্বর-সর্দি ও অ্যালার্জিজনিত সমস্যা আমার নিত্যসঙ্গী এবং হিলিং পাওয়ারও খুব কম। সেদিক থেকে আমার স্বামী খুব শক্ত-সামর্থ্যবান ছিলেন। উনি আমার খুব কেয়ার করতেন। সেই শক্ত মানুষটা যখন দুরারোগ্য মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হলেন, তখন আমার মতো দুর্বল শারীরিক ও মানসিক অবস্থার মানুষটাকে আল্লাহ অসীম ধৈর্য ও সাহস দান করলেন। পরপর দুটি সিজারিয়ানের পর আরও কাহিল হয়ে পড়া সত্ত্বেও এত বড় অস্ত্রোপচারের জন্য আল্লাহর ইচ্ছায় নিজেকে সবদিক দিয়ে ফিট পেয়েছিলেন এবং চূড়ান্তভাবে স্বামীকে লিভার দানের জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হন বলে জানান তিনি। 

নিজের এই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে খাদিজা বলেন, আমি জানি না এই অসুস্থ মানুষটাকে নিয়ে কোন শক্তির ওপর ভর করে একা ইন্ডিয়া পাড়ি জমালাম, দীর্ঘ কয়েক মাস কীভাবে সবকিছু ম্যানেজ করে একা একা সার্জারি রুমে ঢুকলাম। এরপর আরও দুই মাস সার্জারি-পরবর্তী ফলোআপ কমপ্লিট করে দেশে ফিরলাম। সবই কেমন জানি ঘোরের মতো লাগে, মনে হয় কোনো দুঃস্বপ্ন থেকে জেগে উঠেছি।

বর্তমান শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি বেশ দুর্বল। যতটুকু কাজ করি তার দ্বিগুণ রেস্ট নিই। ব্যথাও আছে, বসা থেকে উঠতে গেলে টান লাগে। তবে বেশি কষ্ট হয় ঘুমাতে গেলে, পাশ ফিরতে হয় খুব কষ্টে। লিভারজনিত বড় কোনো শারীরিক জটিলতা নেই। সাধারণ অসুস্থতায় সহজে আক্রান্ত হই। 

দৈনন্দিন জীবনযাপন প্রসঙ্গে খাদিজা জানান, আগে থেকেই কাজেকর্মে একটু অলস প্রকৃতির হওয়ায় সবসময় সাহায্যকারীর সহায়তা নিতে হয়েছে ঘরের কাজে, আর তার বাইরেও স্বামী অনেক সহযোগিতা করতেন। আর এখন এই শারীরিক অবস্থাতেও ঘরের সব কাজ নিজে নিজে করতে হয় আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে। 

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে অনুশোচনার প্রশ্নে খাদিজা বলেন, আফসোস বিষয়টা আমার মধ্যে কখনো ছিল না। মানুষ যখন তুলনা করতে অভ্যস্ত হয়, তখন আফসোস বিষয়টা আসে। আমাদের বিয়েটা ছিল আমার পছন্দে, তখন অনেকেই বলেছিল পস্তাতে হবে। বড় অফিসার বা সরকারি চাকরিজীবী আমার দরকার ছিল না, আমি আমার ভালোবাসার মানুষ পেয়ে সন্তুষ্ট, তাই কোনোদিনও আফসোস আসেনি এই ১৪ বছরের বিবাহিত জীবনে।

আইন পেশার সুযোগ ছেড়ে বিইউপিতে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া কিংবা পরবর্তীতে সন্তান ও পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে চাকরি ছেড়ে ঘরের কাজে মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্তেও কখনো অনুশোচনা হয়নি বলে জানান তিনি। ‘আমি পেছনে যা ফেলে আসি, তা কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ছাড়াই এবং নিজ সিদ্ধান্তে ফেলে আসি, তাই আমি সুখি,’ বলেন খাদিজা। 

গ্ল্যামারাস জীবন ছেড়ে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করাকেই তিনি চূড়ান্ত বলে মনে করেন। তবে ভালো সিদ্ধান্তগুলো আরও আগে না নেওয়ার আফসোস তার রয়ে গেছে। নিজের এই পথচলাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সংকেত ও উত্তম পরিকল্পনা হিসেবে দেখেন তিনি, যেখানে প্রকৃতপক্ষে নিজেরই স্বার্থ বেশি ছিল বলে মনে করেন।

স্বামীকে নিজের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু আখ্যা দিয়ে খাদিজা বলেন, আমার জীবনে স্বামীর প্রয়োজন কতটা জরুরি এবং হৃদয়ের কতটা অংশ জুড়ে তিনি আছেন, তা এই বিপদের মধ্য দিয়েই আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছেন আল্লাহ। জীবন-মৃত্যু যে কতটা কাছাকাছি এবং সুস্থতা যে কত বড় নিয়ামত, তা এই অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি করেছি।  

অঙ্গদানের বিষয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে খাদিজা বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞান আজ অনেক দূর এগিয়েছে এবং কিডনি, লিভার, হৃদযন্ত্র, চক্ষুর মতো জটিল অঙ্গদানের মাধ্যমে মৃত্যুপথযাত্রী রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। আমাদের দেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট নিয়মিতভাবে না হওয়ায় মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা কম, ভয় বেশি। দেশেই এই চিকিৎসা চালু হলে চিকিৎসা ব্যয় অর্ধেকে নেমে আসবে, কমে যাবে অন্য দেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীর হয়রানি। এ বিষয়ে দরকার সরকারের সদিচ্ছা। 

তিনি বলেন, যাদের আর্থিক সঙ্গতি আছে, ডোনার রেডি আছে, তাদের হেলাফেলা না করে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে যত দ্রুত সম্ভব ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে ফেলা উচিত। কেননা এ রোগ নিয়ে একটা দিনও বসে থাকা মানে ট্রান্সপ্ল্যান্টের সাকসেস রেট কমে যাওয়া। রোগী যত দুর্বল হয়ে যাবে, তার হিলিং পাওয়ার তত কমে যাবে। তবে ট্রান্সপ্ল্যান্টই শেষ কথা নয়। এই চিকিৎসা লাইফলং, খুব ব্যয়বহুল। নিয়মিত ওষুধ ও ফলোআপের সামর্থ্য না থাকলে সার্জারির সুফল ভোগ করা সম্ভব নয়।

যা বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

হেপাটাইটিসের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই লিভার সিরোসিস এবং শেষ পর্যন্ত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন এড়ানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও হেপাটোলজি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম।

 অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম

তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, লিভারের কিছু অসুখ থাকে। যেমন- একিউট ভাইরাল হেপাটাইটিস। এর লক্ষণ হচ্ছে খাওয়া দাওয়ায় অরুচি হওয়া, প্রস্রাব হলুদ হওয়া, চোখ হলুদ হওয়া, বমি হওয়া, পেটে ব্যথা হওয়া। স্পেশালি ভাইরাল হেপাটাইটিসের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে জ্বর; প্রথমে জ্বর, গায়ে ব্যথা, মাথা ব্যথা,  এরপর একসময় জন্ডিস। যখনই আপনার প্রস্রাব হলুদ, চোখ হলুদ, খাওয়া দাওয়ায় অরুচি তখনই লিভারটা জরুরি ভিত্তিতে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হবে।

লিভার সিরোসিস প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, ভাইরাল হেপাটাইটিসের ক্রনিক লিভার ডিজিজের শেষ স্টেজ হলো লিভার সিরোসিস। এটি নীরবঘাতক। অনেকদিন ধরে ভাইরাস থাকে, হেপাটাইটিস থাকে, রোগী জানেন না। এক সময় হঠাৎ দেখা যায় পেট ফুলে গেছে, পেটে ব্যথা হয়েছে, পেটের ডান পাশের উপরিভাগে অথবা বাম পাশের কোণার দিকে একটা চাকা দেখা যাচ্ছে, পা ফুলে গেছে— এগুলো লিভার সিরোসিসের লক্ষণ। এই লক্ষণগুলো যখনই দেখা যাবে তখনই আমাদের ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।'

লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রসঙ্গে এই চিকিৎসক বলেন, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের আগের চিকিৎসা আমাদের দেশে সম্ভব। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রমটা কঠিন। তবে লিভারের একটা ভালো দিক হলো কিডনির তুলনায় লিভার দেওয়া-নেওয়া সহজ, কারণ রিজেকশন কম হয়। এমনকি রক্তের গ্রুপ না মিললেও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা সম্ভব। কিডনির ক্ষেত্রে মানুষকে একটা কিডনি পুরোটাই দিয়ে দেওয়া লাগে। লিভার দেওয়ার ক্ষেত্রে দাতাকে লিভারের একটা অংশ দিতে হয়, আর যে অংশটা দেওয়া হয় সেটা আবার তার শরীরে স্বাভাবিকভাবেই পুনস্থাপিত হয়ে যায়। ফলে লিভার দেওয়ার কারণে দাতার ভবিষ্যতে আর কোনো অসুবিধা থাকে না।

ট্রান্সপ্ল্যান্ট পরবর্তী জীবনযাপন নিয়ে তিনি বলেন, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের রোগীকে ইমিউনোসপ্রেশন ওষুধ দিতে হয়, যাতে শরীর নতুন লিভার প্রত্যাখ্যান না করে। অন্যান্য ট্রান্সপ্ল্যান্টের তুলনায় লিভারের ক্ষেত্রে অনেক কম ওষুধ লাগে এবং ধীরে ধীরে এই ওষুধের পরিমাণ একটি বা দুটিতে নেমে আসে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় এসব রোগীকে জনবহুল জায়গা এড়িয়ে চলা এবং মাস্ক পরার মতো সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সফলভাবে হলে দীর্ঘমেয়াদে রোগী ভালো থাকে, এমনকি কর্মক্ষম থাকে। আগের অফিস-আদালত, চাকরি সবকিছু মেনটেইন করতে পারে।

দেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সহজলভ্য করা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশ লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টে পিছিয়ে আছে। প্রতিবেশী দেশে ৯৭ বা ৯৯ সালের দিকে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট শুরু হয়ে এখন ১০০টির বেশি সেন্টারে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয়।

তিনি বলেন, সবকিছুতেই সরকারের দিকে আঙুল তোলা ঠিক নয়, বরং সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান— সবাই মিলে উদ্যোগ নিলেই এটা সম্ভব। প্রতিবেশী দেশের প্রথম লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট হয়েছিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গঙ্গারাম হাসপাতালে। বিভিন্ন দেশে সমাজের বিত্তবান বা সচেতন মানুষেরা সংগঠিতভাবে ফিলানথ্রপিক ও চ্যারিটি হাসপাতাল তৈরি করে থাকেন। আমাদের দেশে এটা এখনো হয়নি। দেশের বড় বিত্তবান মানুষেরা অথবা যারা অনেকদিন বিদেশে অবস্থান করছেন তারাও লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার খুলতে পারেন, যেটা অনেক জায়গায় হয়েছে এবং সেটা সম্ভব।

দেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সম্ভাবনা নিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, আমাদের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন আছে। সাফিসিয়েন্টলি বিদেশ থেকে ট্রেনিং করে এসে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন। আমাদের ট্রান্সপ্ল্যান্ট হেপাটোলজিস্টও ট্রেনিং করে এসেছেন। কিছু নার্সিং স্টাফ, টেকনিক্যাল স্টাফ ও ক্রিটিক্যাল কেয়ারের লোকদের আরেকটু ট্রেইন্ড আপ করা প্রয়োজন। আসলে একজন সার্জন একা কিছু করতে পারেন না। ফুটবল টিমের সঙ্গে চিন্তা করলে সার্জনরা স্ট্রাইকার, আমাদের স্ট্রাইকার আছে, ডিফেন্ডারও আছে, প্লেয়ারও আছে। কিন্তু আমাদের ক্লাব নাই। যে ক্লাব সবাইকে অর্গানাইজ করবে, সেই জায়গাটাতেই সমস্যা।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় এই রোলটা প্লে করছে। তবে সরকার যদি পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে আসে এবং বেসরকারি উদ্যোগকে পাকিস্তান কিডনি অ্যান্ড লিভার ইনস্টিটিউটের (পিকেএলআই) মতো সাপোর্ট দেয়, তাহলে এই দেশে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্ভব। 

অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, প্রতিবছর আমাদের দেশে প্রায় ২১ থেকে ২২ হাজার মানুষ লিভার রোগে মারা যায়। এদের মধ্যে অন্তত এক হাজার মানুষের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট প্রয়োজন। আমাদের চিকিৎসক, সার্জন ও ট্রান্সপ্ল্যান্ট হেপাটোলজিস্ট রেডি। ইতোমধ্যে আমরা করেছি, চলমান আছে। আমরা আশা করি, অচিরেই এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পর্কে আরও কিছু শুভ সংবাদ শুনতে পারবো।