Image description

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) এবং জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের কোর্ট মোড় থেকে নেতাকর্মীরা মিছিলটি বের করেন। পরে মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি জানান নেতারা।

সমাবেশে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস ও প্রচার সম্পাদক শাহাবুদ্দিন বিশ্বাস বক্তব্য রাখেন। আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা জামায়াতের আমির ও সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়েছে। সকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও জড়িতদের আটক করেনি পুলিশ প্রশাসন। একটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হামলার ঘটনায় ইন্ধন দিয়েছে। এমপির বাড়ির সামনে হামলাকারীরা দিনভর অবস্থান করলেও আইনশৃঙ্খলা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের আটক না করলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো আমরা।’ 

এর আগে সকালে সংসদ সদস্য এবং জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এমপির বাসভবনের সামনে অবস্থিত ‘আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ’ ও মসজিদের যাতায়াতের রাস্তা এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমপির পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। বেলা ১১টার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে এমপি এবং তার মেয়ে মেহজাবিন জান্নাত অনন্যার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এমপির মেয়ে অনন্যা তালা দিয়ে আঘাত করলে রোকসানা খাতুন নামে স্থানীয় এক নারী অভিভাবক আহত হন। সেইসঙ্গে অন্য এক অভিভাবকের ওপর চড়াও হন। এমপির মেয়ে এর আগে সোমবারও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখান এবং মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

 

 

পুলিশ ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, গোলাম রসুলের বাড়ির সামনে আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও মসজিদ আছে। ওই মাদ্রাসায় যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপির পরিবারের সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিরোধ চলছিল। এমপির মেয়ে অনন্যা গতকাল সোমবার মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখান। এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে পুলিশের মধ্যস্থতায় মীমাংসা হয়।

মঙ্গলবার সকালে গোলাম রসুল ও তার মেয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রেক্সোনা নামের স্থানীয় এক নারীর মাথা ফাটিয়ে দেন অনন্যা। তিনি পরে নাসির উদ্দিন নামে এক অভিভাবকের ওপর চড়াও হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সংসদ সদস্য ও তার মেয়ে বাসভবনের মূল ফটক বন্ধ করে দেন। এরপর এমপির বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করতে থাকেন এলাকাবাসী। বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। ইটপাটকেল মেরে জানালার গ্লাস ভেঙে দেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তিন ঘণ্টা পর বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

 

সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। তিনি দুই পক্ষের কথা শোনেন। দুই পক্ষকেই ঘটনার সু্ষ্ঠু বিচারের আশ্বান দেন পুলিশ সুপার। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনও মামলা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।