Image description

দেশ জুড়ে আলোচিত ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল এবং জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। প্রথম দিনের শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য  বুধবার (২৯ জুলাই) দিন ধার্য করেছেন।

২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্সসহ প্রয়োজনীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি এ বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো বাধ্যতামূলক। সেই বিধান অনুযায়ী এ মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিলও করেছেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ রায়ে ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, একই বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তার মা শিরীন আখতার মামলা করেন। ওই মামলায় অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার অনুসারীরা তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে জনমত তৈরির চেষ্টা করে। ৩ এপ্রিল কারাগারে সিরাজের সঙ্গে দেখা করার পর ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে নুসরাতকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল মামলা করেন। ২৮ মে তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ২০ জুন আদালত অভিযোগ গঠন করেন। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর রায়ের জন্য ২৪ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়। মাত্র ৬১ কার্যদিবসে মামলায় ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। এরপর ২৪ অক্টোবর আদালত ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন, কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা, নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল এবং মোহাম্মদ শামীম।

হাইকোর্টে মামলার শুনানি শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে নুসরাতের মা শিরীন আখতার বললেন, ‘আমি আজ মঙ্গলবার সকালে মামলার শুনানির বিষয়টি জেনেছি। যাক, দীর্ঘদিন পরে হলেও মামলাটির শুনানি শুরু করায় সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। নিম্ন আদালতে আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। আশা করি উচ্চ আদালতেও আমরা ন্যায় বিচার পাব।’