ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এরফানুর নেছা (৬০) হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় নিহতের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি হলেন নিহতের নাতি মো. রাফি আহাম্মেদ (২৫) এবং তার স্ত্রী মুনিয়া আফরিন ওরফে শাহানাজ বেগম (১৫)।
পুলিশ জানায়, সোমবার মামলার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ছয়ফুল্লাকান্দি উত্তরপাড়ায় নিজ নিজ বাড়ি থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় নিহতের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় ১ ভরি ১৫ আনা ৩ রতি ওজনের দুটি স্বর্ণের বালা এবং ৫ আনা ৯ পয়েন্ট ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ছয়ফুল্লাকান্দি বাজারসংলগ্ন রশিদ মিয়ার বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে এরফানুর নেছার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই বাড়ির মালিক রশিদ মিয়ার স্ত্রী।
এ বিষয়ে মামলার বাদী ও নিহতের ছেলে বুলবুল আহমেদ বাবু বলেছেন, ‘আমরা কোনোদিন ভাবতেও পারি নাই। নিজের নাতি ও নাতির বউয়ের হাতে এমন নির্মম পরিণতি হবে।’
অভিযুক্ত রাফি আহাম্মেদের বাবা জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার দুই স্ত্রী, তার মধ্য রাফি আমার প্রথম স্ত্রীর সন্তান। প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে পরিবারের অমতে মুনিয়া আফরিনকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে রাফি। মুনিয়া ও রাফির আচরণ নিয়ে আমাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ হতো এবং আমার মা নিহত এরফানুর নেছা তাদের বিভিন্ন বিষয়ে শাসন করতেন। ঘটনার দিন ভোরে ফ্রিজ থেকে মাংস বের করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার মায়ের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।
জাহাঙ্গীর আরও বলেন, ‘আমার ছেলে ও ছেলের বউ পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা স্বীকার করেছে এবং পুলিশও এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য ভিডিও করেছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে মামলার পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।