গাজালা জামিল
বছরের পর বছর ধরে ভারতীয় সমাজে একটি গভীর সংকট দানা বাঁধছে। একসময় মানুষের বিশ্বাস ছিল, পড়াশোনা করলেই সমাজে ও অর্থনীতিতে ভালো অবস্থানে পৌঁছানো যাবে। কিন্তু সেই বিশ্বাস এখন ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে। সম্প্রতি ভারতে ‘জেন-জি’ বা নতুন প্রজন্মের বিক্ষোভ এই সংকটকে আবারও সামনে এনেছে। তবে সত্যি বলতে, বহু বছর ধরেই লাখ লাখ পরিবার এই সমস্যার পরিণতি ভোগ করে আসছে। এই সংকটের অনেকগুলো জরুরি দিক নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনো সেভাবে আলোচনাই হয়নি।
যুগের পর যুগ ধরে ভারতীয় পরিবারগুলো ভেবে এসেছে, নিজেদের অবস্থা বদলানোর সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা। গরিব পরিবারগুলোও নিজেদের সাধ্যের বাইরে গিয়ে, অনেক কষ্ট সহ্য করে সন্তানের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছে। তাদের বিশ্বাস ছিল, অন্তত একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি পেলে সন্তান এবং তার মাধ্যমে পুরো পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল হবে, সমাজে একটা সম্মানজনক মধ্যবিত্ত জীবন পাবে।
একসময় ভারতে পড়াশোনা মানে শুধু জ্ঞান অর্জন ছিল না; বরং এটি ছিল ভবিষ্যতের জন্য পরিবারের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ, সামাজিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং শেষ বয়সে বাবা-মায়ের ভরসার জায়গা। সন্তানের সফলতার আশায় অসংখ্য পরিবার নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিত। কিন্তু এখন সেই দিন বদলে গেছে। শিক্ষার বেসরকারিকরণ, কোচিংয়ের অস্বাভাবিক খরচ এবং চাকরির সুযোগ কমে যাওয়ার কারণে অনেক পরিবারের দীর্ঘদিনের সেই বিশ্বাস আজ ভেঙে পড়ছে।
শিক্ষা: এক বড় ঝুঁকির বাজি
ভারতে সব সময়ই সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচার অন্যতম উপায় ছিল শিক্ষা। ব্রিটিশ আমলের পর এর গুরুত্ব আরও বাড়ে। কারণ যখন দেশে সামাজিক নিরাপত্তার অভাব ছিল, তখন শিক্ষাই ছিল অনেক পরিবারের একমাত্র মানসিক জোরের জায়গা। এটি শুধু চাকরি পাওয়ার জন্যই নয়, গরিব মানুষের সম্মানজনক জীবন গড়ার উপায়ও ছিল। একই সঙ্গে জাতপাতের বৈষম্য আর সামাজিক বঞ্চনার শৃঙ্খল ভাঙার অন্যতম হাতিয়ার ছিল এই শিক্ষা।
এমনকি যেসব পরিবারে দিনে তিন বেলা ভালো খাবার জুটত না, তারাও সন্তানের পড়াশোনার জন্য নিজেদের সর্বস্ব ঢেলে দিত। স্কুলের বেতন, কোচিংয়ের খরচ আর ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির টাকা জোগাড় করতে তারা সাধ্যের সবটুকু করত। যারা বিভিন্ন কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রথম দিকে থাকত, তাদের সবার সামনে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা হতো। ফলে এই ব্যবস্থার ভেতরে যে একটা বৈষম্য লুকিয়ে আছে, সেটা এড়িয়ে যাওয়ার অর্থ ছিল নিজের ভবিষ্যতের আশাই ছেড়ে দেওয়া।
কিন্তু গত কয়েক বছরে একটি নির্মম সত্য সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে। পড়াশোনার পেছনে পরিবারগুলোর এই বিশাল বিনিয়োগ আর আগের মতো ফল দিচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ডিগ্রি এখন আর চাকরির নিশ্চয়তা দেয় না। শুধু দিনমজুর নয়, মধ্যবিত্তের আয়ও এখন আর বাড়ছে না। উচ্চশিক্ষিত লাখ লাখ তরুণ-তরুণী এখন খুব কম বেতনের ও অনিশ্চিত চাকরিতে আটকে আছেন, অনেকেই আবার পুরোপুরি বেকার। ধারদেনা করে উচ্চশিক্ষার খরচ জোগানো অসংখ্য পরিবার আজ চরম আর্থিক কষ্টে ভুগছে। অনেকে তো সব হারানোর পথে।
ভারতে এই অবস্থা তৈরি হলো কীভাবে? আসলে দেশের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক দিন ধরেই একটা অবক্ষয় চলছিল। সরকার গত কয়েক দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে সরকারি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাজেট কমিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীদের সেই অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও শোষণমূলক বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে।
‘শিক্ষার অধিকার’ আইনের মতো বিভিন্ন কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে সরকারি স্কুল থেকে বেসরকারি স্কুলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরও শক্তিশালী ও লাভজনক হয়েছে। অন্যদিকে টাকার অভাব ও দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে সরকারি স্কুলগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে, এমনকি অনেক স্কুল এখন বন্ধই হয়ে যাচ্ছে।
হতাশার চাকরির বাজার, কোচিং বাণিজ্যের বিস্তার
ঠিক একই সময়ে বেসরকারিকরণ, অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজার এবং চুক্তিভিত্তিক বা অস্থায়ী কাজের (গিগ অর্থনীতি) দ্রুত বিস্তারের ফলে ভারতের চাকরির বাজারও বেশ চাপে পড়েছে। অর্থনীতির বড় একটা অংশই এখন কম বেতন ও অনিশ্চিত চাকরির ওপর নির্ভরশীল। তাই এখন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ভালো চাকরির কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না।
হতাশার অর্থনীতি
অর্থনীতির সাধারণ নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই হতাশার সুযোগেই গড়ে উঠেছে কোচিং ও বেসরকারি শিক্ষানির্ভর এক বিশাল ব্যবসা। অনেক কোচিং সেন্টারের বিরুদ্ধেই মাত্রাতিরিক্ত ফি আদায়, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
কোচিংয়ের খরচ আকাশছোঁয়া হলেও, ‘আর একবার চেষ্টা করলে হয়তো সুযোগ মিলবে’—এই আশায় পরিবারগুলো বারবার টাকা খরচ করে। সন্তানের ভর্তি বা চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য অনেকেই ঋণ নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনেকেরই পরীক্ষায় টেকা হয় না। আর যে ডিগ্রি জোটে, তা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত চাকরি মেলে না।
একসময় মানুষ ভাবত, জমিজমা, টাকা-পয়সা বা ক্ষমতা না থাকলেও সন্তানের শিক্ষাই হবে তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা। কিন্তু এখনকার বাস্তবতা একদম আলাদা। অনেক উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী হয় বেকার বসে আছেন, না হয় এতই কম টাকা আয় করেন যে নিজের খরচ চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। সেখানে পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব নেওয়া তো দূরের কথা।
আগে ধারণা ছিল, উচ্চশিক্ষিত সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে বাবা-মায়ের দেখাশোনা করবে। কিন্তু সেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম চলে আসা পুরোনো হিসাব এখন আর মিলছে না। জেন-এক্স ও মিলেনিয়াল প্রজন্মের অনেকেই এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে তাদের বৃদ্ধ মা-বাবার দেখাশোনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের সন্তানদেরও অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে লড়াই করতে দেখে তারা গভীর হতাশায় ভুগছেন।
নীতিগত বিভ্রান্তি
শিক্ষায় কোটা বা বৈষম্য কমানোর নীতি নিয়ে ‘যোগ্যতা’ বা ‘মেধা’র যে নতুন ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে কোচিং-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা আরও রমরমা হয়ে উঠেছে। এর ফলে এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যেখানে সাফল্য এখন আর মেধার ওপর নির্ভর করে না, বরং কার কত টাকা আছে তার ওপর নির্ভর করে। এতে সমাজে শ্রেণিগত বৈষম্য আবারও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি ও চাকরির পরীক্ষার সংখ্যাও বেড়েছে। সরকারের নীতির পরিবর্তনে ভারতের ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’-এর মতো নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। ফলে শুধু ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্যই নয়, অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারও বাধ্য হয়ে এই কোচিংনির্ভর ব্যবস্থার ফাঁদে পা দিচ্ছে।
শুধু পরীক্ষা দেওয়ার এই নীতি এবং কোচিং ব্যবসার আঁতাত শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে নতুনভাবে প্রভাবিত করছে। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবারের ওপরও বাড়ছে আর্থিক বোঝা। কোচিং ব্যবসার এই দ্রুত বিস্তারের কারণে মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের কাছে মূলধারার স্কুলের শিক্ষার গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানেই পড়ছে তা নয়; সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, দাতব্য সংস্থা ও বিভিন্ন সমিতির চালানো বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোও আজ বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি দেশের বড় বড় শিল্পপতি ও করপোরেট প্রধানেরা কর্মীদের দীর্ঘ সময় ধরে অমানবিক খাটুনির পক্ষে কথা বলে সমালোচিত হয়েছেন। তারা বারবার দাবি করছেন, চাকরিপ্রার্থীদের নাকি পর্যাপ্ত শিক্ষা বা দক্ষতার অভাবেই চাকরি হচ্ছে না। কিন্তু তাদের এই দাবি যদি সত্যিই হয়, তবে যোগ্য কর্মীর অভাবে বেসরকারি খাতের ঠিক কোন কোন পদগুলো ফাঁকা পড়ে আছে, তার কোনো সন্তোষজনক উত্তর তারা দিতে পারছেন না।
এ বছরের শুরুতে ভারতের ন্যাশনাল ক্যাপিটাল রিজিয়নের (এনসিআর) তরুণ কারখানা শ্রমিকরা খারাপ কাজের পরিবেশ এবং সামান্য মজুরির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন। অথচ ভারতে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করার (ওয়েজ থেফট) যে চল রয়েছে, তা নিয়ে জনসমক্ষে খুব একটা আলোচনাই হয় না। এমন কম বেতনে সাধারণ মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকাই কঠিন, সেখানে উচ্চশিক্ষা অর্জন তো অনেক দূরের স্বপ্ন।
ভবিষ্যৎ কী?
ভারতের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো—উচ্চশিক্ষা কি সত্যিই ভালো কোনো কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিচ্ছে? কারণ, উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের মধ্যেও বেতন না বাড়া এবং চাকরির অনিশ্চয়তা এখনো ব্যাপকভাবে রয়ে গেছে। তাই শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং চাকরির বাজারের এই আসল পরিস্থিতি নিয়ে সারা দেশে এখন একটি যুগোপযোগী আলোচনা শুরু হওয়া দরকার।
এটি শুধু প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বা দেরিতে ফল প্রকাশের সমস্যা নয়। ভারতের উচিত সবার আগে সরকারি স্কুলগুলোতে বড় পরিসরে বিনিয়োগ বাড়ানো। একই সঙ্গে, সরকারি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু হাতেগোনা কয়েকটি নামিদামি ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানে বেশি টাকা বরাদ্দের যে ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, তা দূর করা প্রয়োজন। তাছাড়া বিভিন্ন নীতির সুযোগ নিয়ে যেভাবে বেসরকারি উচ্চশিক্ষার ব্যবসাকে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে, তা নিয়েও এখনই সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।
এই অবস্থা চলতে থাকায় পরিস্থিতি আজ এমন জায়গায় ঠেকেছে যে, ঋণের দায়ে ডুবে থাকা অনেক পরিবারকে এখন ভাবতে হচ্ছে তারা সন্তানদের আদৌ স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে কি না, বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর সামর্থ্য তাদের থাকবে কি না। একদিকে ধনী পরিবারগুলো অনেক টাকা খরচ করে নামিদামি জায়গায় পড়ার সুযোগ পাচ্ছে, আর অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভাগ্যে জুটছে কেবলই মিথ্যা প্রতিশ্রুতি। ফলে ধনী ও সাধারণ মানুষের শিক্ষার সুযোগের এই বৈষম্য দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে।
তবে এখন শুধু সাধারণ মানুষই নয়, উঁচু শ্রেণির মানুষরাও এই সংকটের প্রভাব টের পাচ্ছেন। কারণ, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে, এটি দিয়ে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানও আগের মতো সুরক্ষিত রাখা যাচ্ছে না। তাই এই গভীর সংকট নিয়ে জোরালোভাবে সতর্ক করার সময় এসে গেছে।
সবচেয়ে রূঢ় সত্য হলো, আজকের ভারতে শিক্ষার পেছনে যে টাকা খরচ করা হয়, তা অনেক ক্ষেত্রেই আর নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। ভারতের পরীক্ষাব্যবস্থা বেশির ভাগ তরুণ-তরুণীকেই এমন এক প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেয়, যেখানে তাদের ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। আর যারা এই বাধা পার হয়ে সফল হয়, তাদেরও বিপুল ঋণ নিয়ে দামি ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। এসব ডিগ্রিতে চাকরির কোনো নিশ্চয়তা না থাকায়, শেষ পর্যন্ত তা আর্থিকভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে পরিণত হয়।
যতদিন পর্যন্ত সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা নতুন করে প্রাণ ফিরে না পাচ্ছে এবং নিরাপদ ও স্থায়ী চাকরির সুযোগ বাস্তবে তৈরি না হচ্ছে, ততদিন অভিভাবকদের একটি বিষয় বুঝতে হবে। বিটেক, এমবিবিএস, কিংবা এলএলবি বা এমবিএর মতো ডিগ্রির জন্য বিপুল টাকা খরচ করে কোচিং করানো এখন অত্যন্ত উচ্চঝুঁকির একটি বিনিয়োগ।
সমাজ হিসেবে আমাদের বুঝতে হবে, শ্রমিকদের জন্য যদি পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হয়, তবে গিগ বা চুক্তিভিত্তিক কাজের পরিমাণ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে, অবসরের পর জীবন কাটানোর জন্য বাবা-মাকে যদি পুরোপুরি সন্তানের আয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়, তবে এই সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।
তাই অভিভাবকদের উচিত চোখ বন্ধ করে কোচিংয়ের এই স্রোতে গা না ভাসিয়ে, স্কুল থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সাশ্রয়ী ও মানসম্মত সরকারি শিক্ষার দাবি জোরালো করা। ভেঙে পড়া এই জরাজীর্ণ ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই কোনো সমাধান নয়। বরং সবার জন্য সহজলভ্য সরকারি শিক্ষা ও নিরাপদ কর্মসংস্থানের দাবি জোরদার করতে হবে। এ ধরনের পরিবর্তনের দাবি কোনো অবাস্তব কল্পনা নয়।
আমরা যদি এখনই সতর্ক না হই, তবে আস্ত একটা প্রজন্মকে হারিয়ে ফেলার ঝুঁকিতে পড়ব। এরই মধ্যে আমাদের সমাজে বিশালসংখ্যক মানুষ স্থায়ীভাবে এমন একটি শ্রেণিতে পরিণত হয়েছেন, যারা হয়তো পর্যাপ্ত কাজ পাচ্ছেন না, অথবা খুব সামান্য বেতনে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
- গাজালা জামিল: ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ল অ্যান্ড গভর্ন্যান্স-এর সহকারী অধ্যাপক।
(স্ক্রল ডট ইন থেকে অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম)