বৈদেশিক ডাক বিভাগে কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অযৌক্তিক ট্যাক্স আরোপের অভিযোগ উঠেছে। সুবিচার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও হয়রানি ছাড়া পার্সেল খালাসের দাবি জানিয়ে সম্প্রতি ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (বৈদেশিক ডাক, ঢাকা) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ডাক বিভাগ থেকে অভিযোগগুলো কাস্টমসও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, বিয়ানীবাজার এলাকার গাড়িচালক মাহফুজ আহমেদ গত ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে পার্সেল পাঠাতে যান। সে সময় উচ্চমান সহকারী সবুজ ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মেহেদী তার কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ চান। তিনি ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানালে পার্সেলটি জমা নেওয়া হয়। তবে এরপর থেকে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য তাকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী মাহফুজ দাবি করেন।
অন্যদিকে বিসমিল্লাহ অটো সেন্টার-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ তালহা নূরের অভিযোগ, জাপান থেকে আনা গাড়ির চাবি ও ম্যানুয়াল বইয়ের একটি পার্সেলে কাস্টমস ৯৬ শতাংশ ট্যাক্স আরোপ করেছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলছিলেন, যে গাড়ির ওপর ইতোমধ্যে ২০০ শতাংশ ট্যাক্স দেওয়া হয়েছে, তার চাবি ও ম্যানুয়ালের ওপর দ্বিতীয়বার ট্যাক্স ধার্য সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
তবে ঘুষ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উচ্চমান সহকারী সবুজ ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মেহেদী। তাদের ভাষ্য, চাবি ও ম্যানুয়ালের পার্সেলসংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে আইসিডি রাজস্ব বিভাগের সহকারী কমিশনার তানিয়া আলমের কাছে শুনানির অপেক্ষায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা আবুল ফয়েজ চৌধুরী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল শাহনাজ সিদ্দিকী দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। আগামীর সময়কে তিনি জানান, রাজস্ব বিভাগের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন বিভাগ ও রাজস্ব দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি।