ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের মুখে শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষামন্ত্রী করা হয়।
ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রেসিডেন্ট ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য প্রহ্লাদ যোশীকে তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রহ্লাদ যোশী কর্ণাটকের লোকসভা সদস্য। বর্তমানে তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং ভোক্তা, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্বের ফলে তিনি এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও নেতৃত্ব দেবেন।
সম্প্রতি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ব্যানারে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থী ও তরুণরা। গত সোমবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এরপর আন্দোলন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টানা দুই দিন জনসাধারণের উদ্দেশে বার্তা দিলেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি থেকে সরে আসেননি। শেষ পর্যন্ত শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ধর্মেন্দ্র প্রধান।
এদিকে, ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসের পর আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
শনিবার তৃতীয় দফা বৈঠকের পর নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, জিতেন্দ্র সিং এবং সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও অশুতোষ রাঙ্কা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
সৌরভ দাস বলেন, সরকার দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। তাই আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর সরকার সব দাবি মেনে নিয়েছে। আমরা সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।