Image description

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী জামায়াতের রাজনীতি ও দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন।

স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, ন্যায়, ইনসাফ ও নৈতিক মূল্যবোধের আদর্শে তিনি রাজনীতি করেছেন। তবে সম্প্রতি দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তার ব্যক্তিগত আদর্শ ও বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও লেখেন, ইচ্ছাকৃতভাবেই বিবৃতিতে ‘ইসলাম’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নামের সঙ্গে ‘ইসলাম’ যুক্ত থাকলেই তা ইসলামের প্রকৃত আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না; মানুষের পরিচয় নির্ধারিত হয় তার কর্ম ও চরিত্রে।

একই সঙ্গে রাজনৈতিক জীবনে তার কোনো বক্তব্য বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার সদর (মহিপুর) ইউনিয়ন জামায়াতের আমির তোফাজ্জল হোসেন সিপাহি বলেন, ৫ আগস্টের পর খলিলুর রহমান দুই-তিন মাস সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। পরে তিনি কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেননি এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেননি।

তিনি আরও বলেন, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ ও প্রায় তিন লাখ টাকা পাওনা আদায়ের বিষয়ে সংগঠন কোনো দায়িত্ব না নেওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে সংগঠন থেকে দূরে সরে গেছেন বলে আমরা মনে করি। তবে এখন পর্যন্ত তিনি সংগঠনের কাছে কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেননি। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল নেতারা আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।

এদিকে খলিলুর রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে মহিপুর বন্দরসহ কলাপাড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।