Image description

শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। আজ শুক্রবার বিকেলে স্পিকারেরে কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন তিনি।

এদিকে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রের ভাষা নিয়ে দুটি প্রশ্ন তুলেছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। শুক্রবার বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে শিশির মনির লিখেছেন, ‘স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ। তাহলে এত কথা লিখতে হলো কেন? তিনি নিজেই পদত্যাগপত্র লিখেছেন? নাকি তাকে দিয়ে এত কথা লেখানো হয়েছে? ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি কী করেছেন সেটা লিখেছেন। আবার তার ‘সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক সংকট ঘটেনি’-এর সঙ্গে স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগের কী সম্পর্ক?’

 

 

প্রসঙ্গত, পদত্যাগপত্রে দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সৃষ্ট সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলায় নিজের ভূমিকার বিষয়েও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

 

জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন, তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত নেন। পরে ওই পরামর্শের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হয়।

 

রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে এবং সরকারি ও বিরোধী দল সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। তার ‘সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি’।

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় Autonomic Neuropathy রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন।

এসব কারণ বিবেচনায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন।