দিনাজপুরের বিরামপুরে পশ্চিম জয়দেবপুর আবাসন প্রকল্প এলাকায় কয়েক মাসের ব্যবধানে নিকট আত্মীয় পরিবারের চার শিশুর মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ-আতঙ্ক।একের পর এক শিশুর মৃত্যু ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়।
এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর গ্রামজুড়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। অনেকেই নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক ও শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া অনেকেই ভয়ে ছেড়েছেন আবাসন প্রকল্প মহল্লা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবাসন প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা সেলিম হোসেনের ছেলে বক্কর আলীর তিন বছর বয়সী মেয়ে খাদিজা প্রথমে মারা যায়। এরপর প্রায় ৪০ দিনের ব্যবধানে বক্কর আলীর ছোট দুই ভাই ওসমান গনি (৪) ও ওমর ফারুক (৮)-এর মৃত্যু হয়। ওসমান গনি পশ্চিম জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির এবং ওমর ফারুক তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরে বক্কর আলীর শ্বশুর জয়নাল মিস্ত্রির ছোট মেয়ে জুইপা মনি (১০)-ও মারা যায়। নিকট আত্মীয় পরিবারের চার শিশুর ধারাবাহিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বক্কর আলীর বাবা সেলিম হোসেন বললেন, তার পুত্রবধূ জান্নাতুন মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এ কারণে শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় তার সন্দেহ রয়েছে। তবে প্রকৃত ঘটনা কী, তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি।
তিনি জানালেন, আমার ছেলের বউ মানসিক রোগে ভুগছে। তাই আমার দুই ছেলে, এক নাতনি এবং তার নিজের ছোট বোনের মৃত্যুর ঘটনায় আমার সন্দেহ হয়। তবে আসল ঘটনা কী, তা আমরা জানি না। তদন্ত হলেই সত্য বেরিয়ে আসবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রথম তিন শিশুকে আবাসন এলাকার সেলিম হোসেনের বাড়ির পাশে দাফন করা হয়েছে। সর্বশেষ মারা যাওয়া জুইপা মনিকে স্থানীয় নরুলের বাড়ির পশ্চিম পাশে দাফন করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরেই ঘটনাগুলো নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। তাদের মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে নিকট আত্মীয় পরিবারের চার শিশুর মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া কঠিন। তাই প্রতিটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মৃত্যুর বিষয়টি স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য আকবর হোসেনকে জানানো হয়। তিনি ঘটনাগুলো গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনের নজরে আনার বা তদন্তের উদ্যোগ নেননি।
অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্ড সদস্য আকবর হোসেনের ভাষ্য, বিষয়টি জেনেছি। তবে অভিযোগে যেভাবে বলা হচ্ছে, তেমন কিছু আছে বলে আমার জানা নেই।
খানপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য এবং বিরামপুর উপজেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলামের মতে, বিষয়টি জানতে পেরেছি। ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন পাহান বললেন, ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা শুনছি। লিখিত অভিযোগ পেলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরপর চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পশ্চিম জয়দেবপুর আবাসন প্রকল্প এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অনেকেই তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করে সত্য উদঘাটন এবং দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হোক।
জয়দেব পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঞ্জুয়ারা বেগম জানান, মৃত্যুর কারণগুলো সত্যিই রহস্যজনক। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কৃর্তপক্ষকে জানিয়েছি। তবে শিশুগুলো তাদের নিজ নিজ বাড়িতে মারা যায় বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে বিরামপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম সরকার বললেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।