রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ এবং পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির বিদায়ের বিষয়টি সামনে এলো।
বঙ্গভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিদায়ের প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তিনটি পৃথক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলেই তিনি স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ৫০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই পদের মেয়াদ পাঁচ বছর (২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত) হলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মেয়াদের পূর্বেই পদটি শূন্য হতে যাচ্ছে।
সংবিধান অনুযায়ী প্রধানত তিনটি কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে—মেয়াদ পূর্ণ হওয়া, শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা বা নিজস্ব ইচ্ছায় পদত্যাগ এবং গুরুতর অসদাচরণ বা সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে সংসদে অভিশংসিত হওয়া।
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক, অন্তত ৩৫ বছর বয়সী এবং সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের প্রজ্ঞাপন ও তফসিল জারি করবেন।
প্রার্থীর জন্য দুজন সংসদ সদস্যের প্রস্তাবক ও সমর্থক হওয়া আবশ্যক এবং জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন (তবে একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষিত হন)। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংসদ অধিবেশন না থাকলে ভোটগ্রহণের অন্তত সাত দিন আগে স্পিকারকে প্রজ্ঞাপন জারি করে অধিবেশন আহ্বান করতে হবে।