Image description

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইরান। সেই আদেশ না মেনে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা অন্তত পাঁচটি জাহাজে হামলাও চালিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এতে বিশ্বে জ্বালানি ও সার পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ফের প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশের আমদানি করা জ্বালানির বড় অংশ হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় সৃষ্ট অচলাবস্থার কারণে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।

সংস্থাটির মতে, ইউরিয়া সারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও নাজুক হতে পারে।

ডব্লিউএফপির নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ব্যবহৃত ইউরিয়া সারের প্রায় ৮০ শতাংশ সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে আমদানি করা হয়। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এসব দেশ থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ইউরিয়া মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী অক্টোবর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়া সারের দাম ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে গ্যাস–সংকটের কারণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি ইউরিয়া কারখানার মধ্যে তিনটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের সার সরবরাহ পরিস্থিতি চাপে পড়েছে।

ডব্লিউএফপির আশঙ্কা, সারের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলমান এই সংকটের কারণে বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ৮১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে সার আমদানি, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ডব্লিউএফপি।
সূত্র: আলজাজিরা