বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মসজিদের ভেতরে নামাজরত অবস্থায় ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রায় এক মাস পর প্রধান আসামি বড় ভাই হারুন অর রশিদ সরদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নোয়াখালী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন রোববার যোহরের নামাজের সময় উপজেলার ১ নম্বর আন্দারমানিক ইউনিয়নের উত্তর আন্দারমানিক জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. নজরুল ইসলাম সরদার (৪৫) ওই এলাকার মেছের সরদারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যোহরের ফরজ নামাজের তৃতীয় রাকাতে সেজদায় থাকা অবস্থায় নজরুল ইসলামকে তার বড় ভাই হারুন অর রশিদ সরদার মসজিদে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেট, হাত ও পায়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেন। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হাত-পায়ের রগও কেটে দেওয়া হয়।
পরে মুসল্লিরা গুরুতর আহত অবস্থায় নজরুল ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর থেকেই হারুন অর রশিদ আত্মগোপনে ছিলেন।
কাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালীর একটি মসজিদ থেকে তবলিগ জামাতে থাকা অবস্থায় হারুন অর রশিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
নিহতের পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল। নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার দ্রুত বিচার এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।