Image description

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিং দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে এক নবীন শিক্ষার্থীকে প্রথমে পাবনা সদর হাসপাতাল এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অসুস্থ শিক্ষার্থীর নাম মুশফিকুর রহমান তুহিন। তিনি ফার্মেসি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) শিক্ষার্থী। অভিযোগ উঠেছে, বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭ ব্যাচ) শিক্ষার্থী সোহানুর, সাকিব, জাহিদ, তানিম, ইউনুস, মুশফিক ও সাইদুরসহ আরও কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে ১৭ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ১৮ ব্যাচের সব ছেলে শিক্ষার্থীকে বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি মেসে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন। সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর নবীনদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। এ সময় উচ্চস্বরে কথা বলা, গালাগাল এবং মানসিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ ওঠে।

একপর্যায়ে মানসিক চাপে মুশফিকুর রহমান তুহিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রচুর ঘামতে থাকেন এবং প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ দেখা দেয়। প্রথমদিকে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও অবস্থার অবনতি হলে রাত ৮টার দিকে তাঁকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক ঘটনাটি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করেন। পরে রাত ১১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা পাবনা সদর হাসপাতালে ছুটে যান।

১৮ ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, সিনিয়ররা তাদের মেসে ডেকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। তবে শারীরিকভাবে কাউকে নির্যাতন করা হয়নি। তাদের দাবি, মুশফিক আগে থেকেই শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। মানসিক চাপের কারণে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, আমরা হাসপাতালে এসে প্রাথমিকভাবে র‍্যাগিংয়ের ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে বুধবার সকাল ১০টায় জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।