টানা বৃষ্টিপাত এবং ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটে আবারও নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও একাধিক পয়েন্টে তা বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। এতে করে সিলেটের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানেয়েছে, এখন পর্যন্ত নদ-নদীর কোনো পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সিলেটের সব নদ-নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কানাইঘাটে সুরমা নদীর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার, সুরমা নদীর সিলেট সদর পয়েন্টে প্রায় ৮৫ সেন্টিমিটার এবং অমলশিদ পয়েন্টে প্রায় ১ মিটার ১০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও কয়েকটি পয়েন্টে পানির উচ্চতা সামান্য বেড়েছে, তবে কোথাও বন্যার আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
এ বিষয়ে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস কালবেলাকে বলেন, সিলেটের সব নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কানাইঘাটে পানি বিপৎসীমার প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার, সিলেট সদরে ৮৫ সেন্টিমিটার এবং অমলশিদে প্রায় ১ মিটার ১০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জেও পানি বিপৎসীমার নিচেই আছে। কিছু স্থানে পানি সামান্য বাড়লেও বন্যার মতো পরিস্থিতি নেই।
তিনি বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত বড় কোনো বন্যার আভাস পাওয়া যায়নি। সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি মূলত মেঘালয়ের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। এখন পর্যন্ত সেখানে টানা ভারী বৃষ্টির খবর নেই। তবে বর্ষাকালে যেকোনো সময় বৃষ্টিপাত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক কারণে মেঘালয়ের পানি দ্রুত নেমে যাওয়ায় সাময়িক ফ্ল্যাশ ফ্লাড দেখা দিলেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে সবাইকে পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রাখতে এবং বন্যার সময় সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।