Image description

বিচার ও সাজাপ্রাপ্ত সব পলাতক আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বললেন, শুধু সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনা বা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত সব আসামিকে ফেরাতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।’

আজ সোমবার সকালে বিমসটেক নিয়ে আয়োজিত সেমিনার শেষে তিনি এসব কথা বলেছেন।

শামা ওবায়েদ বললেন, ‘সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফেরত চেয়ে ভারতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভারতে যারা পালিয়ে আছেন, তাদের ফেরাতে ভিন্ন ভিন্ন চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

‘জুলাইয়ের দুই বছর পূর্তিতেও আমরা এখনও সেই শোক বয়ে বেড়াচ্ছি। এত মানুষের রক্ত ঝরেছে, এত প্রাণহানি ঘটেছে। আমাদের প্রত্যাশা, এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত হোক।’—যোগ করেন তিনি।

এ সময় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কথা চিন্তা করে ভারত এবার ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল এবং তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করা হয়।

বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ে বলা হয়, তারা ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (ঊর্ধ্বতন কমান্ডের দায়) নীতির আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী।

একই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হওয়া সাবেক আইজিপি মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল ৪৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে, যেখানে শেখ হাসিনা ও কামালের রাষ্ট্রীয় অনুকূলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।