Image description

বেসরকারি ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসাপাতলে গত ২৯ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাহেলা খাতুন। তার স্বজনের সন্দেহ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবেহলায় এই মৃত্যু হয়েছে। তারা চিকিৎসায় অবহেলার জন্য বিচার চান সংশ্লিষ্টদের। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের চিকিৎসা অবহেলা ঘটার বিষয় অস্বীকার করে। কিন্তু হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট এক স্বাস্থ্যকর্মীকে দায়িত্ব অবহেলার জন্য শোকজ নোটিশ দেয়া হয়েছে। রাহেলার ছেলে রায়হান হোসেন রুদ্র সেই নোটিশ সংগ্রহ করেন এবং লিগাল নোটিশ পাঠান হাসপাতালকে। জবাব না পেয়ে থানায় মামলা করেন এবং মাকে ‘চিকিৎসা অবহেলায়’ হারানো কষ্টে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখি শুরু করেন। একই সাথে অভিযোগ দায়ের করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও।


ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কর্তৃপক্ষ যখন এমন চাপের মুখে তখন ওই হাসপাতালের পক্ষে এবং রায়হান ও তার পরিবারের বিপক্ষে শুরু হয় সংঘবদ্ধ অনলাইন ক্যাম্পেইন। অন্তত ৮টি ভুয়া ওয়েবসাইটে এক যোগে প্রচার করা হয় যে, রায়হান ও তার স্বজনরা মিলে হাসপাতালে ভাঙচুর করেছেন এবং হাসপাতালের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করছেন। যদিও রায়হান রুদ্র যখন ভাঙচুরের প্রমাণ চেয়েছেন কর্তৃপক্ষের কাছে তখন তারা কিছুই দেখাতে পারেননি। ভুক্তভোগীর স্বজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার পাশাপাশি ভুয়া ওয়েবসাইটগুলোর প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘নির্দোষতা’ তুলে ধরা হয়।


যে সময়ে এই ৮টি ভুয়া ওয়েবসাইট ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষে সংঘবদ্ধ ক্যাম্পেইন করেছে প্রায় একই সময়ে দেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলোও এই হাসপাতালটির ভুয়সী প্রশংসা করে ‘সংবাদ’ আকারে দীর্ঘ (৪ মিনিট ৫৯ সেকেন্ড) প্রতিবেদন প্রকাশ করে। গত ২৪ জুন প্রথম আলোর ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের সেবায় ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ”। পুরো প্রতিবেদনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালটির প্রশংসা আর ইতিবাচক কাজের বিবরণে ভরপুর।


তবে দ্য ডিসেন্ট এর পক্ষ থেকে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের কাছে আলোচ্য ‘সংবাদ প্রতিবেদন’ এর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জানানো হয়, এটি অর্থের বিনিময়ে প্রকাশ করা একটি বিজ্ঞাপন ছিল। এবং ১৪ জুলাই দ্য ডিসেন্ট এর যোগাযোগের পর প্রথম আলোর ফেসবুক পেইজে প্রতিবেদনটির ক্যাপশনে ‘#বিজ্ঞাপনবার্তা’ বলে একটি নোট যুক্ত করা হয়েছে।


এ ব্যাপারে প্রথম আলোর ডেপুটি হেড অব অনলাইন (রিপোর্ট) রাজীব আহমেদ লিখিত বক্তব্যে জানান, “এই ভিডিও বিজ্ঞাপন বার্তা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। আমরা দেশের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে এ ধরনের ভিডিও প্রচার করেছি। এর সংখ্যা ২৫ এর বেশি। এটি তারই অংশ। সবে ভুলবশত বিজ্ঞাপন বার্তা লেখা হয়নি। আপনারা দৃষ্টি আকর্ষণ করার পর বিজ্ঞাপন বার্তা কথাটা যুক্ত করেছি।”
কিন্তু এক বছর আগে প্রথম আলোতেই (এবং অন্য সংবাদমাধ্যমেও) প্রকাশিত হয়েছিলো ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নানান অনিয়মের খবর...