পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর এলাকার দোপপাড়ায় এই হামলা হয়। পাবনার পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—সুজানগর থানার ওসি মোজাফফর হোসেন ও কনস্টেবল সবুজ। তারা বর্তমানে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার মধ্যরাতে বিশ্বকাপের খেলা উদযাপনের সুযোগে আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি আব্দুল ওহাবের নেতৃত্বে মিছিল ও নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পায় থানা। পরে দুটি গাড়িতে পুলিশের টহল দল মথুরাপুরের দোপপাড়া এলাকায় যায়।
তারা আরও জানায়, পুলিশ সদস্যদের দেখে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী ও সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা পুলিশের দুটি গাড়িই ভাঙচুর করে। এ সময় আহত হন ওসিসহ দুই সদস্য।
আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল ওহাব উপস্থিতি থেকে হামলায় নেতৃত্ব দেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
সুজানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, টহল দলে ১০-১৫ পুলিশ সদস্য ছিলেন। তারা আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীকে একত্র হতে দেখে এগিয়ে যান। ওই সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে আরও কয়েকশ মানুষ ডেকে হামলা করা হয়।
তবে অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব বলেন, ‘পুলিশের অভিযানের কারণে আমি নিজেই এলাকায় যেতে পারি না। সেখানে উপস্থিত থাকার প্রশ্নই আসে না। আমি যতটুকু জেনেছি, রাতে খেলা দেখার পর স্থানীয় যুবকেরা সেখানে খিচুড়ি রান্না করে খাচ্ছিলেন। পুলিশ গিয়ে ১০-১৫ জনকে আটক করলে স্থানীয়রা বেরিয়ে এসে তাদের ছাড়িয়ে নেয়। ওই সময় ধস্তাধস্তিতে পুলিশের গাড়িতে আঘাত লাগে এবং দুজন সদস্য আহত হন।
এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ বলেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।