Image description

পুলিশের আরও শতাধিক কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যে কোনো সময় এ আদেশ হবে। এসব কর্মকর্তা ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় নির্বাচনের সময় জেলা পুলিশ সুপার অথবা মহানগরে উপ-পুলিশ কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

পুলিশ সদরদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা টাইমস অব বাংলাদেশকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা জানান, ১০৭ কর্মকর্তাকে ‘ভোট ডাকাতির সমন্বয় কমিটি’র সদস্য ও ২০২৪ সালের জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তালিকায় ১৮তম বিসিএস ব্যাচের এক কর্মকর্তা ছাড়াও ২০, ২১, ২২ ও ২৪ ব্যাচের কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০৬ জন তখন পুলিশ সুপার পদমর্যাদা ও একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন।

গত ৫ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। এরাও  একাদশ সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এই কর্মকর্তারা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অবসরকালীন সুবিধা পাবেন।

অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৪ জন ডিআইজি, ১৮ জন অতিরিক্ত ডিআইজি এবং একজন পুলিশ সুপার।

গত ৩ মে ১৬ আরেক আদেশে ডিআইজিসহ ১৭ শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। গত ২২ এপ্রিল অবসরে পাঠানো হয় ১১ ডিআইজি ও ২ অতিরিক্ত ডিআইজিকে।

 

আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির সময় ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে অবসরে পাঠাতে পারে।

পুলিশ সদরদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মাঠ পর্যায়ে তদারকির দায়িত্বে থাকা জেলা ও মেট্রোপলিটনের পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হয়ে পক্ষপাতমূলক কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।

তালিকার ২১ নম্বরে এবিএম মাসুদ হোসেনের নামের পাশে সমন্বয় কমিটির সদস্য, জুলাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছাড়াও কক্সবাজারে মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যায় জড়িত বলে উল্লেখ রয়েছে। তিনি কক্সবাজারের এসপি ছিলেন।

ডিএমপির তেজগাঁও জোনের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারের নামের পাশে ‘ভোট ডাকাতির সমন্বয় কমিটির সদস্য’, ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডে’ জড়িত উল্লেখ থাকলেও অপর ৩৮ উপকমিশনারের মন্তব্যের স্থান ফাঁকা রয়েছে।

এছাড়া ১৭ কর্মকর্তার নাম নেই, উল্লেখ আছে শুধু একাদশ সংসদ নির্বাচনের সময়কার পদবি।

পুলিশের অপর একটি সূত্র বলেছে, শুধু ক্যাডার সার্ভিস কর্মকর্তা নয়, পেশাদারত্বের বাইরে গিয়ে যেসব ইন্সপেক্টর ও সাব-ইন্সপেক্টর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পক্ষপাতমূলক আচারণ করেছেন তাদের তালিকাও চূড়ান্ত প্রায়। শাস্তির আওতায় আসছেন তারাও।