চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার দোহাজারী বিওসি মোড় এলাকায় বন্যাদুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগও উঠেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমেদের উপস্থিতিতে এ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব যুবদলের একটি গ্রুপের হাতে থাকায় অপর একটি গ্রুপ ক্ষুব্ধ ছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। সংঘর্ষকারীরা ইউনিয়ন পরিষদের এক গ্রাম পুলিশের ওপরও হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উত্তর সাতকানিয়া থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা আফিল উদ্দিন আহমেদ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকে কিছু হাইব্রিড লোক যুবদল ও ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, তার দীর্ঘ ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এমন অস্ত্রের রাজনীতি দেখেননি। তিনি অভিযোগ করেন, লায়ন সেলিম উদ্দিনের অনুসারী রুবেল, মোস্তাক ও সোহেলের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরীফুল ইসলাম। তিনি জানান, সংসদ সদস্যের ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে কালিয়াইশ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ আহমদ উপস্থিত ছিলেন। তাকে দেখে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে স্লোগান দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তবে এলাকায় কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ আহমদ সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি নিজে ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলির আওয়াজ শুনেছি।’ বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে দাবি করে তিনি বলেন, তার ইউনিয়নের এক গ্রাম পুলিশকে মারধর করা হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণের মতো মানবিক কর্মসূচিতে এমন বিশৃঙ্খলা ও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।