Image description

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে আহত হওয়া বন্য মা হাতিটি মারা গেছে। প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর আজ রবিবার সকাল ১০টার দিকে মৃত্যু হয় হাতিটির।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের টেকনাফ রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গতকাল শনিবার বিকালে আহত হওয়ার পর থেকেই হাতিটির চিকিৎসায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় থাকায় তাকে অন্য কোথাও নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই ঘটনাস্থলেই স্যালাইন, ওষুধ, ক্ষতস্থানের চিকিৎসা এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার নাইট্যংপাড়া-শিয়ালিয়াঘোনা পাহাড়ি এলাকায় খাদ্য সংগ্রহ করছিল হাতিটি। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নামার সময় ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী হাতিটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে গড়িয়ে পড়ে। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম ও অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় পা পিছলে যায় তার। নিচে পড়ার সময় গাছে আঘাত লেগে তার শরীরে জখম হয়। দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে যান। প্রাণীটি আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। অসহায়ের মতো মাটিতে পড়েছিল। যন্ত্রণায় ছটফট করছিল। বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল এবং চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল সেখানে যোগ দেয়।

টেকনাফ প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সার্জন ডা. ইষাম বিন ওয়াদুদ বলেছেন, ‘ওপর থেকে পড়ে যাওয়ায় হাতিটির শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং একাধিক স্থানে জখমের সৃষ্টি হয়েছিল। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে তাকে বাঁচাতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।’

সহকারী বন সংরক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম বললেন, ‘যে পাহাড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানে অন্তত ২৩টি এশীয় বন্য হাতির আবাস। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ি ঢাল পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী জানান, আহত হাতিটির পেছনের দুটি পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পেটেও গুরুতর আঘাত ছিল।’

তিনি জানান, হাতিটির মৃত্যুর ঘটনায় একটি তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে। এরপর বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রাণীটিকে মাটিচাপা দেওয়া হবে।

শনিবার রাতেই আহত হাতিটির চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, হাতিটির চিকিৎসা ও পরিচর্যায় কোনো ধরনের অবহেলা না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি এলাকায় মাটি নরম ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় বন্য প্রাণীর দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।  টেকনাফের বনাঞ্চলে বিচরণকারী বিপন্ন এশীয় হাতির নিরাপদ আবাস, চলাচলের পথ এবং খাদ্যের উৎস সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।