Image description

রাজধানীর আদাবর থানাধীন জাপান গার্ডেন সিটিতে বিদ্যুৎ নেই তিনদিন। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে এখানকার প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা। পানি নেই, আলো নেই— সবদিকেই যেন অন্ধকার। ফ্ল্যাট মালিক ও ভাড়াটিয়ারা ক্ষোভে ফুসলেও উদাসীন ব্যবস্থাপনা কমিটি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবাসন প্রকল্পটির নিজস্ব ৩৩ কিলো ভোল্ট উপকেন্দ্রের ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি। তবে অভিযোগ উঠেছে, সমস্যার কথা জাপান গার্ডেন সিটি কর্তৃপক্ষ বা ফ্ল্যাট মালিক ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে (ডিপিডিসি)। যদিও জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ডিপিডিসির শ্যামলী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম।

আগামীর সময়কে তিনি বলছিলেন, ‘আবাসিকের ৩৩ কিলো ভোল্ট ট্রান্সফরমারের তদারকি ডিপিডিসি করে। তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় আমরা খোঁজ নিলেও সিটি কর্তৃপক্ষ থেকে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ দেয়নি। আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো কারিগরি ত্রুটি নেই।’

‘বৃহস্পতিবার ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আশা করি আজ রাতের মধ্যে বিদ্যুৎ আসবে’, যোগ করেন তিনি।

তবে জাপান গার্ডেন সিটির সেন্টার কমিটির সহ-সভাপতি ডক্টর ইয়াহিয়া খন্দকার বলছেন, ‘নিজস্ব বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের ত্রুটির কারণেই এমন দুর্ভোগ। আজ রাতের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’

এদিকে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ মন্তব্য করেছেন, ‘নাগরিকদের ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য নয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ডিপিডিসি যখন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত, তখন ব্যবস্থাপনা কমিটির দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়ই সংকট নিরসনের প্রধান শর্ত। বাসিন্দাদের স্বার্থে আর কোনো বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়।’

ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমাতে তাদের কাছে থাকা একটি সমক্ষমতার ট্রান্সফরমার সাময়িকভাবে ভাড়ার ভিত্তিতে দেওয়ার প্রস্তুতি আছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আজ সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিপিডিসির প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম জানাচ্ছিলেন, ‘আমাদের প্রায় অর্ধশতাধিক লোক জাপান গার্ডেন সিটিতে কাজ করছেন। ওখানে আমাদের প্রকৌশলীরা উপস্থিত রয়েছে।’

জাপান গার্ডেন সিটির ২১ নম্বর ভবনের বাসিন্দা সরদার বাবুল। তার ভাষ্য, ‘কী যন্ত্রণায় আছি বলা মুশকিল। ৯ তলায় থাকি। হার্টের রোগী। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে হয়।’ আরেকটি ভবনের বাসিন্দা আইনজীবী মিজানুর রহমান বলেন, ‘ফ্রিজের সব খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। আর সন্ধ্যা নামলেই ভূতের নগরীতে পরিণত হয়।’

সারিশমা ইসলাম দিয়া নামে এক ও লেভেল শিক্ষার্থী জানান, দুই ঘণ্টা জেনারেটর চলার পর আবার বন্ধ করে দেয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘আবাসিকের অনেক শিক্ষার্থী এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। তারা আছে মহাবিপদে। ইন্টারনেট লাইন নেই, মোবাইলে চার্জ দেওয়া যাচ্ছে না, আলো নেই ফ্যান নেই— যন্ত্রণা যাকে বলে!’