সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে শুল্ক হ্রাসসহ নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সেলিনা সুলতানার লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্যে শুল্ক বহির্ভূত বাধা দূর করা, সংবেদনশীল পণ্যের তালিকা কমানো এবং শুল্ক হ্রাসে কাজ করছে সরকার। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ৯-১০ মার্চ ঢাকায় সচিব পর্যায়ের ১০ম বৈঠক হয়েছে এবং পিটিএ-এর আওতায় গঠিত যৌথ বাণিজ্য কমিটির প্রথম বৈঠক শীঘ্রই ঢাকায় হবে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ১০০ পণ্য ভুটানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। একইভাবে ভুটানের ৩৪ পণ্য বাংলাদেশে এই সুবিধা পাচ্ছে।
ভারতের বাজার প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সাফটা ও এপিটিএ কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে। দুই দেশের সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে ২০১৮-তে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ২০২২-এ আনুষ্ঠানিক আলোচনার সিদ্ধান্তে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তথ্য বিনিময় হয়েছে। এছাড়া তামাক ও মাদক (মদ) ছাড়া বাংলাদেশের সব পণ্যে ভারত শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ায় রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি জানান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সম্পাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে তিন দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে চতুর্থ দফা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।
সাফটা অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, সাফটা প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপে ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সার্কভুক্ত দেশগুলো সংবেদনশীল পণ্যের তালিকা ২০ শতাংশ কমিয়েছে এবং বর্তমানে তৃতীয় ধাপে এই তালিকা আরও কমানোর কাজ চলছে।