রাজধানীর গুলশান, ভাটারা, বসুন্ধরা ও মালিবাগে ধারাবাহিক অভিযানে চালিয়ে ৬৫ দশমিক ৯ কেজি সীসা, ৪১টি হুক্কা ও সিসা তৈরির অন্যান্য মালামালসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
সম্প্রতি গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন–আহমেদ শরীফি (৩৪), মেহেদাদ শরীফি (৩৪) ও মো. মাকসুদ আলম (৪০)। তাদের মধ্যে আহমেদ শরীফি ও মেহেদাদ শরীফি ইরানী বংশদ্ভূত এবং আপন দুই ভাই।
ডিএনসির দাবি, এটি দেশে এখন পর্যন্ত একক অভিযানে জব্দ হওয়া সবচেয়ে বড় সিসার চালান।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় সেগুনবাগিচায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ বদরুদ্দীন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্প্রতি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২ জুলাই রাজধানীর বসুন্ধরা, মালিবাগ, কালাচাঁদপুর ও নূরেরচালা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসির গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযানে প্রথমে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো দুটি পার্সেল থেকে মোট ২ কেজি সিসা জব্দ করা হয়। পরে পার্সেলের তথ্যের সূত্র ধরে কালাচাঁদপুরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আহমেদ শরীফি (৩৪) ও মেহেদাদ শরীফি (৩৪) নামে দুই সহোদরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই বাসা থেকে আরও ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা ও ২০টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারার নূরেরচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মাকসুদ আলম (৪০) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকে ১৮ কেজি সিসা ও ২১টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএনসির হিসাব অনুযায়ী, চারটি স্থানে পরিচালিত অভিযানে মোট ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম সিসা, ৪১টি হুক্কা, ৪০ কেজি সিসা সেবনের কয়লা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে ডিএনসি জানায়, গ্রেপ্তার দুই সহোদর দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানের পর দেশে ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সিসা বিক্রির নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) অর্থ গ্রহণ এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় পণ্য সরবরাহ করা হতো বলে তাদের দাবি।
ডিএনসি আরও জানায়, অভিযানে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস থেকে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের তথ্য, অর্ডারের বিবরণ ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সহযোগী, পরিবেশক ও নিয়মিত ক্রেতাদের শনাক্তের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।
ডিএনসির ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কুরিয়ার সেবা এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে পরিচালিত মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএনসির এই অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, ডিএনসির সম্প্রতিক অভিযানে অধিকাংশ সিসা লাউঞ্জ বন্ধ হলেও ঢাকার বনানীতে ইউনিক রিজেন্সিস ও ঢাকার বাইরে দুই বিভাগীয় শহরে এখনও বেশ কয়েকটি সিসা লাউঞ্জ চলমান থাকার তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। শিগগিরই সেগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হবে।