পিরোজপুরের নাজিরপুরে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে শিব মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দখলে বাধা দেওয়ায় একজনকে কুপিয়ে যখম ও দুজনকে মারধর করা হয়েছে। এরমধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৯ জুন) উপজেলার ষোলসত বাবুরহাট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—ষোলসত গ্রামের সোনারাম চক্রবর্তীর ছেলে ও স্থানীয় আনসার ভিডিপির ইউপি কমান্ডার তপন চক্রবর্তী, তার মা বকুল রানী চক্রবর্তী এবং প্রতিবেশী মৃত নারায়ণ চন্দ্র শিলের ছেলে মিলন কুমার শিল। হামলাকারীরা হলেন— স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও একই গ্রামের বাসিন্দা মো. আজিজুল শেখ (৫৫), তার স্ত্রী মুঞ্জিলা বেগম এবং পুত্রবধূ আরজু বেগম।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, আজিজুল শেখ স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।
ঘটনা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই গ্রামের বাবুরহাট এলাকার ‘নিলখোলা শিব মন্দির’-এর জায়গা দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল শেখ। তারই অংশ হিসেবে সোমবার সকালে আজিজুল শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরা মন্দিরের জায়গা দখল করতে গেলে বাধা দেন আনসার ভিডিপি কমান্ডার তপন চক্রবর্তী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আজিজুল শেখের নেতৃত্বে একদল লোক তপন চক্রবর্তীকে অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এ সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার মা বকুল রানী চক্রবর্তী এবং প্রতিবেশী মিলন কুমার শিলকেও পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়।
তপন চক্রবর্তীর বাবা সোনারাম চক্রবর্তী বলেন, মন্দিরের ওই জমিতে আওয়ামী লীগ নেতা আজিজ শেখ ঘর উঠাতে গেলে আমার ছেলে বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় আমার স্ত্রীও মারধর করা হয়। বর্তমানে আমার ছেলে মুমূর্ষু অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক) চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চিকিৎসক ডা. আকাশ কুণ্ড জানান, আহত তপন চক্রবর্তীর মাথায় গুরুতর অস্ত্রের আঘাত রয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকি দুজনকে নাজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নাজিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল হালিম বলেন, এই জমিসংক্রান্ত বিষয়টি আমরা পূর্ব থেকেই অবগত এবং আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও বিষয়টি জানেন। অভিযুক্ত আজিজ শেখের বিরুদ্ধে পূর্বেও এলাকায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং প্রধান অভিযুক্ত আজিজুল শেখসহ বাকিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।