চট্টগ্রাম নগরে ৩০ হাজার কোটি টাকার মোনোরেল প্রকল্প হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত জালিয়াতি চক্রটির প্রতারণার জাল এবার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পর্যায়ে ধরা পড়েছে।
বৈশ্বিক নির্মাণ জায়ান্ট ওরাসকম কনস্ট্রাকশন এবং মিশরের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘দি আরব কন্ট্রাক্টরস’ কায়রো সদর দপ্তরের পর এবার বাংলাদেশে অবস্থিত খোদ মিশরীয় দূতাবাসও লিখিতভাবে এই চক্রের সমস্ত দাবি ভুয়া, অবৈধ ও ভিত্তিহীন ঘোষণা করেছে।
আজ সোমবার দুপুর ১টা ৪৪ মিনিটে আগামীর সময়ের ইমেইলের ফিরতি বার্তায় এই আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতি জানানো হয়।
দূতাবাসের পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আগামীর সময়ের প্রতিবেদকের সরবরাহ করা তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর দূতাবাস বিষয়টি নিয়ে মিশরের সংশ্লিষ্ট মূল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চালায়। তদন্ত শেষে ওরাসকম কনস্ট্রাকশন গ্রুপ এবং দি আরব কন্ট্রাক্টরস উভয় প্রতিষ্ঠানই দূতাবাসকে নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশে ‘আরব কন্ট্রাক্টরস – ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়াম’ নামে কোনো জোট বা প্রতিষ্ঠানকে তারা কার্যক্রম চালাতে কোনো ধরনের স্বীকৃতি বা আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেয়নি।
একই সঙ্গে মিশরীয় দূতাবাস অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের কোনো মেগা প্রকল্প বা কাজ পাওয়ার উদ্দেশ্যে ওরাসকম কনস্ট্রাকশন গ্রুপের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কাউছার আলম চৌধুরী নামের কোনো ব্যক্তিকে কোনো ধরনের অথরাইজেশন, অনুমোদন কিংবা কূটনৈতিক অনুমোদন বা ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।
কায়রোর মূল প্রতিষ্ঠানগুলোর লিখিত অস্বীকৃতি আগামীর সময়ে প্রকাশের পরও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) জালিয়াতি চক্রের হোতা কাউছার আলমের পক্ষে সাফাই গেয়ে আসছিল। এমনকি গত শনিবার চসিকের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছিল-ওরাসকম বাদ গেলেও ‘দি আরব কন্ট্রাক্টরস’ এককভাবে এই ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। যদিও এখন চুপচাপ সিটি কর্পোরেশন।