খুচরা পর্যায়ের পর এবার পাইকারি বিদ্যুতের দামও কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগামী বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে আদেশ জারি হতে পারে। তবে ঠিক কতটুকু দাম কমানো হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত ৩ জুন বিইআরসি পাইকারি ও খুচরা— উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। তবে পরদিনই কমিশন সিদ্ধান্ত সংশোধন করে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট এবং শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকদের জন্য আগের বিদ্যুৎ মূল্য বহাল রাখে।
দুই ধাপে দাম কমানোতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর মোট রাজস্ব আয় প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ওপর, যার সম্ভাব্য রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা।
বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, রাজস্ব ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে আরইবি কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে। অন্যান্য বিতরণ কোম্পানিও একই ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে বিতরণ কোম্পানিগুলোর জন্য নির্ধারিত গড় পাইকারি বিদ্যুতের দাম, যা বর্তমানে প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ৩৯ পয়সা, তা কিছুটা কমানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ পাইকারি বিদ্যুতের দাম কমানোর বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি এখনও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে এবং কতটুকু মূল্য কমানো হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।” তিনি জানান, গ্রাহক পর্যায়ে লাইফলাইনসহ দুই ধাপের দাম আগের মতো রাখায় আরইবিসহ বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানি রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে। প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার মতো ঘাটতির কথা আরইবিই কমিশনকে জানিয়েছে। কারণ সবচেয়ে বেশি গ্রাহক আরইবির। এই পরিস্থিতিতে তাদের আর্থিক চাপ কমাতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
এর আগে গত ৪ জুন বিদ্যুতের প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য ঘোষিত বাড়তি দাম প্রত্যাহার করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে আবাসিক গ্রাহকশ্রেণির লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) এবং প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম আর বাড়ছে না। এই দুই শ্রেণির গ্রাহক আগের দামেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানানো হয় সেই সময়।
প্রসঙ্গত, এর একদিন আগেই ৩ জুন বিইআরসি পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করে। সেই সময় লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা এবং প্রথম ধাপের ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা ১ জুন থেকে কার্যকর করার কথা ছিল।