নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেছেন, সমুদ্রসীমা রক্ষা, সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দুর্যোগকালীন ত্রাণ সহায়তা, জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে নৌবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে।
রোববার সকালে চট্টগ্রামস্থ বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে (বিএনএ) মিডশিপম্যান এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৬ ব্যাচের ‘গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন সালাম গ্রহণ করেন।
কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পদক বিতরণ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে নৌপ্রধান বিভিন্ন বিষয়ে অনন্য কৃতিত্ব প্রদর্শনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে গৌরবময় পদক তুলে দেন।
এর মধ্যে সোর্ড অব অনার লাভ করেন মিডশিপম্যান মো. ইনতিসার ইসলাম ইনান। নৌ প্রধান স্বর্ণপদক পেয়েছেন মিডশিপম্যান সাদমান সাকিব পান্থ। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক পেয়েছেন এ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট মো. আবিদ শাহরিয়ার অনু। এছাড়াও বিএনএ আন্তর্জাতিক স্বর্ণ পদক পেয়েছেন সেরা চৌকশ বিদেশি মিডশিপম্যান হিসেবে প্যালেস্টাইন আর্মির জাহিদ সালাহ।
নৌপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমুদ্র এক বিশাল ক্ষেত্র। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনী পরিচালিত শিপইয়ার্ড, ডকইয়ার্ড ও সিএনআরডি দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং নিজস্ব সক্ষমতায় সামুদ্রিক প্ল্যাটফর্ম ও অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশীয় প্রযুক্তিতে লার্জ পেট্রোলক্রাফট, এলসিটি, সার্ভে ভেসেল, ওপিভি, ডাইভিং বোট ও অন্যান্য নৌযান নির্মাণের পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম দেশ হতে হেলিকপ্টার, আনম্যানড এয়ারক্রাফট (ড্রোণ), আধুনিক যুদ্ধজাহাজ এবং বিভিন্ন সক্ষমতার সামুদ্রিক প্ল্যাটফর্ম সংযোজনের কাজ চলমান রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, কূটনীতিবিদ এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
নৌবাহিনীতে যুক্ত হলেন ৬১ নবীন কর্মকর্তা: জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্রত নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অগ্রযাত্রায় আজ যুক্ত হয়েছেন ৬১ জন নবীন কর্মকর্তা। বর্ণাঢ্য এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০২৩ ব্রাভো ব্যাচের ৫৪ জন মিডশিপম্যান এবং ২০২৬ আলফা ব্যাচের ৭ জন ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসারসহ মোট ৬১ জন নবীন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন। সদ্য কমিশনপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫ জন নারী এবং ২ জন বিদেশি কর্মকর্তা রয়েছেন।