১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতের আওতায় কৃষিঋণ মওকুফের এ উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়।
বাজেট উপস্থাপনের আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ সিদ্ধান্তের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ হবে। এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হবেন বলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানানো হয়েছিল।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুদসহ কৃষকদের কাছে পাওনা প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যা এই মওকুফ কর্মসূচির আওতায় আসবে।
এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাবেন এবং কৃষি উৎপাদনে নতুন করে উৎসাহিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা খাতের আওতায় ফসল উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য ২ হাজার ৭৪৯ দশমিক ১০ কোটি টাকা, বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য ৮৪৯ দশমিক ৪৮ কোটি টাকা, কৃষিপণ্যের বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা সম্প্রসারণে ৬০ দশমিক ৫২ কোটি টাকা এবং কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় সার, বীজ ও অনুদান সহায়তার জন্য ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়।
বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ, ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহ এবং উত্তরাঞ্চলসহ সম্ভাবনাময় অন্যান্য এলাকায় বিশেষায়িত কৃষি রফতানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এসব বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।