নতুন অর্থবছরে যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, তাতে নিট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে গত অর্থবছরে প্রায় দ্বিগুণ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকালে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রীর আশা, এই ব্যয়ের মধ্যে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব বাবদ আয় করা যাবে। সে হিসাবে আয় ও ব্যয়ের সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। এই ঘাটতি মেটাতে বিদেশ থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ করা হবে, যা জিডিপির ২ দশমিক ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ সংকটের এই সময়ে মোট ঘাটতির ৬৪ দশমিক ১৩ শতাংশই বিদেশি ঋণ দিয়ে পূরণের আশা করছে নতুন সরকার।
এর মধ্যে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে আগে নেওয়া ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে। তাতে নিট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত নিট বিদেশি ঋণের চেয়ে ৮৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে বৈদেশিক ঋণ খাতে ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর যা কমে দাঁড়ায় ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর কিস্তি ও সুদ মিটিয়ে নিট বিদেশি ঋণ ছিল ৫৮ হাজার কোটি টাকা।
বাজেট বক্তৃতার ভূমিকায় অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যমেয়াদে রাজস্ব আদায়ে গতি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজেট ঘাটতিকে সহনীয় পর্যায়ে রেখে ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে মাঝারি ঝুঁকি থেকে নিম্ন ঝুঁকির ক্রেডিট রেটিংয়ে ফিরিয়ে আনা হবে। ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধি থেকে সরে এসে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বেসরকারি বিনিয়োগ-কেন্দ্রিক একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এবার বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে; যা ঋণ ঝুঁকি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সহায়ক হবে।
অর্থমন্ত্রী এবার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ধার করে বাকি ঘাটতি পূরণের লক্ষ্য ঠিক করেছেন। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে সরকার নিতে চায় ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে অভ্যন্তরীণ ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। সংশোধন করে তা বাড়িয়ে ধরা হয় ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা।
এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়, যা সংশোধনের পর বেড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।