Image description

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের জন্য সরকার তিন ধাপে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিকল্পনাকে ‘থ্রিআর (রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন) কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বাজেট বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রথম ধাপে এক বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

দ্বিতীয় ধাপে বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম থেকে তৃতীয় বছরের মধ্যে অর্থনীতির উত্তরণ নিশ্চিত করা হবে। আর তৃতীয় ধাপে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।
এই তিন ধাপের কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব হবে।

 

তিনি বলেন, বিগত সরকারের অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি এখনও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর সংস্কার ও বাস্তবমুখী পরিকল্পনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে ওঠে দেশের মানুষের সৃজনশীলতা, শ্রম, দক্ষতা ও উৎপাদনশীল সক্ষমতার ওপর। এ কারণে বর্তমান সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক রূপান্তরের পথে যাত্রা শুরু করেছে, যাতে উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।

এ লক্ষ্য সামনে রেখে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা অর্জন, পুনর্গঠন এবং বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির জন্য একটি মধ্যমেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে দেশের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা এবং মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের ৫৫তম এই বাজেট বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান বা বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে।

বাজেট অনুযায়ী, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।