Image description

দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের ক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রাজস্ব আহরণ এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত এই বাজেটকে নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদেরা।

বিএনপি সরকারের সর্বশেষ জাতীয় বাজেট উপস্থাপিত হয়েছিল ২০০৬-০৭ অর্থবছরে। সে সময় অর্থমন্ত্রী ছিলেন প্রয়াত এম সাইফুর রহমান। প্রায় দুই দশক পর আবারও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে।

জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্যই প্রথমবারের মতো সংসদীয় বাজেট প্রক্রিয়ার অংশ হতে যাচ্ছেন। এই বাজেট দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়।

এবারের বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ ও নিয়ন্ত্রণমুক্তি: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে বাংলাদেশের যাত্রা’। এটি হবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা।

এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, সরকার নতুন একটি অর্থনৈতিক মডেল নিয়ে কাজ করছে। এর লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ‘গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্রে’ পরিণত করা।

সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে একদিকে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, অন্যদিকে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন—এই দুই লক্ষ্যকে একসঙ্গে সামনে রেখে এবারের বাজেটটি তৈরি করা হয়েছে।

তবে কাজটি সহজ নয়। কারণ, অর্থনীতি এখনও বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যায় আক্রান্ত। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, বিনিয়োগের ধীরগতি, ব্যাংক খাতের সংকট এবং বাড়তে থাকা ঋণের চাপ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

অর্থনীতিবিদেরা মনে করেন, আগামী অর্থবছরে সরকারের সামনে তিনটি বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকবে। প্রথমত, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা। দ্বিতীয়ত, রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা। তৃতীয়ত, ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থায়নের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা। তাঁদের মতে, এই তিন ক্ষেত্রে সফলতা না এলে বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রস্তাবিত বাজেটে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি হলো ঘাটতি অর্থায়ন। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক—দুই উৎস থেকেই অর্থ সংগ্রহ করতে চায়। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৈদেশিক উৎস থেকে নিট অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা অনুদান হিসেবে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা সরাসরি ব্যাংক খাত থেকে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এখানেই বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সরকার যখন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়, তখন একই অর্থের জন্য বেসরকারি খাতকেও প্রতিযোগিতা করতে হয়। অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় ‘ক্রাউডিং আউট’ (বেসরকারি খাতকে ঋণবাজার থেকে সরিয়ে দেওয়া)।

অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সরকার বাজেটের আকার বাড়াচ্ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে রাজস্বের উৎস বাড়ছে না। ফলে অর্থনীতি ক্রমেই ঋণনির্ভর হয়ে উঠছে।’

তাঁর মতে, ব্যাংক খাত থেকে অতিরিক্ত ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের ওপর।

এই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক কারণ ব্যাংক খাত নিজেই বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংক খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার হার নেমে গেছে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৯৩ শতাংশে। কোনো ব্যাংকিং ব্যবস্থা যখন ঋণাত্মক মূলধন পর্যাপ্ততার অবস্থায় চলে যায়, তখন তার পক্ষে অর্থনীতিতে কার্যকরভাবে বিনিয়োগ ও ঋণ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্যাংক খাতে সংকটের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দেশের মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৮৫ শতাংশ মাত্র ১০ থেকে ১২টি ব্যাংকে কেন্দ্রেীভূত। এসব ব্যাংকের বেশির ভাগই রাষ্ট্রায়ত্ত বা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি ব্যাংক খাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং পুরো আর্থিক ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এমন একটি দুর্বল ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি অর্থায়নের চাপ সৃষ্টি করলে তারল্য সংকট আরও বাড়তে পারে। ফলে সুদের হার বৃদ্ধি পাবে, বেসরকারি বিনিয়োগ কমবে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও ধীর হয়ে যেতে পারে।

সরকার আগামী অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সরকারের এই আশাবাদী লক্ষ্যের ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)—তিনটি প্রতিষ্ঠানই মনে করছে, স্বল্পমেয়াদে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে থাকতে পারে।

আইএমএফের (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। সংস্থাটির মতে, অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় কমে যাওয়া, কঠোর অর্থনৈতিক নীতি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতা প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করবে।

অন্যদিকে এডিবি বলছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বারবার বন্যা এবং সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে আগের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে গেলে এবং ভোগব্যয় কিছুটা বাড়লে ধীরে ধীরে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের নির্ধারিত প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করতে হলে বেসরকারি বিনিয়োগে বড় ধরনের গতি ফিরিয়ে আনতে হবে। কিন্তু ব্যবসায়িক আস্থার ঘাটতি এবং বিনিয়োগের ধীরগতি শুধু সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।

বেসরকারি বিনিয়োগ বর্তমানে নিম্নমুখী অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে ড. মুস্তাফিজুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পদক্ষেপ থাকলে অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘বাজেটে যদি বিনিয়োগ কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার মতো কার্যকর পদক্ষেপ থাকে, তাহলে বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে।’

অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে বাজেটে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি নিম্ন আয়ের মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজসহ অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্ট কমিয়ে আনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তাঁদের আশঙ্কা, এত বড় ব্যয় কর্মসূচি অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নতুন অর্থপ্রবাহ তৈরি করবে। কিন্তু একই সময়ে দেশে মূল্যস্ফীতি যদি উচ্চ পর্যায়ে থাকে, তাহলে অতিরিক্ত ব্যয় নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে।

আসন্ন বাজেটের সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে রাজস্ব আহরণ। সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছে।

কিন্তু চলতি অর্থবছরের অভিজ্ঞতা সেই লক্ষ্য অর্জনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এপ্রিল পর্যন্ত আদায় হয়েছে মাত্র ৩ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দুর্বল বিনিয়োগ, ধীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় প্রায় ৪২ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন অত্যন্ত কঠিন। মূল্যস্ফীতি এখনও ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। শিল্প উৎপাদন প্রত্যাশার তুলনায় ধীর। ব্যাংক খাত মূলধন সংকটে ভুগছে।

এ অবস্থায় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে সরকারকে ব্যাংক খাত থেকে আরও বেশি ঋণ নিতে হতে পারে। ফলে বেসরকারি বিনিয়োগ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সরকারের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, এবারের বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি সরকারের সংস্কার কর্মসূচির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও তুলে ধরবে। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘সরকার সংস্কার কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে কি না, সেই বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা পাওয়ার জন্য বাজেটটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।’

সব মিলিয়ে অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট হবে নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, রাজনৈতিক অগ্রাধিকার এবং প্রশাসনিক সক্ষমতার প্রথম বড় পরীক্ষা। এর সাফল্য নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর—প্রথমত, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন; দ্বিতীয়ত, জাতীয় করব্যবস্থার দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তর; তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন।

সরকার যদি এসব ক্ষেত্রে সফল হয়, তাহলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকর সুরক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে। কিন্তু বাস্তবায়নে ব্যর্থতা হলে ঋণনির্ভরতা বাড়বে, বিনিয়োগ কমবে এবং অর্থনীতি ২০২৯ সালের এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) উত্তরণের আগেই নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে।

একদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈদেশিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে সরকারকে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। সুতরাং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের প্রকৃত প্রশ্ন শুধু কত টাকা ব্যয় করা হবে তা নয়; বরং সেই অর্থ কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা যাবে, সেটিই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের আগামী অর্থনৈতিক যাত্রাপথ।