বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের যত খবর এখন সামনে আসছে, সব খবরে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের দৃশ্যপট জানা যাচ্ছে। কথিত বাংলাদেশিদের ঠেলে পাঠানোর বিষয় নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বহিনী দুই মেরুতে অবস্থান নিয়েছে। এমন টানাপড়েনের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা ছড়াচ্ছে একটি মসজিদ থেকে। যে মসজিদটিতে নামাজ আদায় করেন দুই দেশের মানুষ।
মসজিদটির ভূমির একাংশ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দক্ষিণ বাঁশজানী গ্রামে; যা সীমান্তের ৯৭৮ নম্বর মেইন পিলারের পাশে। ঐতিহাসিক দক্ষিণ বাঁশজানী ঝাকুয়াটারি মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে ‘সীমান্ত মসজিদ’ হিসেবে পরিচিত। মসজিদের আরেকাংশের ভূমি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার গারোলঝোরা গ্রামে।
গত শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, জুমার দিনে মসজিদ প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। তবারক, মিষ্টি নিয়ে মসজিদে আসেন মুসল্লিরা। যেন সীমান্তের কাঁটাতারের মধ্যে গড়ে ওঠা ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির অনন্য মিলনমেলা। ভৌগোলিক বিভাজনও আলাদা করতে পারেনি দুই বাংলার মানুষের সম্পর্ক।

নামাজ পড়তে আসা ভারতীয় মুসল্লি আবু বক্কর এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা এ মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে নামাজ আদায় করছি। এখানে কোনো সমস্যা নেই আমাদের। দুই দেশের বাসিন্দা হলেও এক সমাজে বাস করি।
মসজিদের ইমাম আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এখানে দুই দেশের মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়েন। কেউ কাউকে আলাদা মনে করেন না। এই মসজিদ আমাদের ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। আমি এ মসজিদে গত ৫০ বছর ধরে ইমামতি করে আসছি। দুই দেশের সরকারের কাছে দাবি জানাই, মসজিদে অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবস্থা নেওয়ার।
স্থানীয়রা জানান, ১৮২০ সালে নির্মিত হয় মসজিদটি। দেশ ভাগের পর একটি গ্রাম দুই দেশে ভাগ হয়ে যায়। তবে ভেঙে যায়নি মানুষের আত্মিক বন্ধন। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে বাংলাদেশ ও ভারতের মুসল্লিরা একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ান এই মসজিদে।
বহু পুরোনো হওয়ায় ২০২১ সালে মসজিদটি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আইনি জটিলতায় সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক দর্শনার্থী দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন এই ব্যতিক্রমী মসজিদটি একনজর দেখতে। সীমান্ত এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, ঐতিহাসিক এই মসজিদটি টিকে থাকুক শান্তি ও সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে।

লালমনিরহাট জেলা থেকে মসজিদটি দেখতে আসা দশনাার্থী বেলাল হোসেন বলেন, বাঁশজানী ঝাকুয়াটারি মসজিদের কথা শুধু লোকমুখে শুনেছি। এবার নিজ চোখে দেখালাম। মনে হলো দুই দেশের মানুষের মেলবন্ধনে মসজিদটি শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
বাশজানি গ্রামের বাসিন্দা মো. শামিম বলেন, আমাদের এই মসজিদটি প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন দেখতে আসছে। মসজিদের যদি অবকাঠামো উন্নয়ন করা যায় তাহলে এখানকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, মসজিদটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে অবকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।