বাংলাদেশের পুরোনো একটি ভিডিও ভারতীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশে এক হিন্দু মেয়েকে তার বাবার সামনে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং পরে ওই মেয়ে ও তার বাবা ক্যামেরার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ছড়িয়ে পড়া ২৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে এক নারী ও এক পুরুষকে কাঁদতে দেখা যায়। ভিডিওতে ওই নারীকে নিজের ছেঁড়া কাপড় দেখাতে দেখা যায়। এ সময় তিনি বাংলায় বলেন, “আমার অবস্থা দেখেন, আমারে কী করেছে দেখেন।”
কলকাতা ইসকনের সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাধারমন দাস ২০২৬ সালের ২৯ মে ভিডিওটি একই দাবিতে পোস্ট করেন। এক্স পোস্টে তিনি আরো লিখেছেন, “ইসলাম ধর্ম বিভিন্ন দেশে একের পর এক পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।“
একই দাবিতে আরো পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এবং এখানে।
দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা যায়, ভিডিওটি হিন্দু নারী ধর্ষণের ঘটনার নয়। এটি ঋণের কিস্তি পরিশোধে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে এক দম্পতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগের ঘটনা। অভিযুক্তদের একজন নিজেও হিন্দু।
রিভার্স ইমেজ সার্চ এ ‘Dristikon’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ১৫ মে একই ভিডিও পাওয়া যায়। ওই পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “কিস্তির টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে বি’ব’স্ত্র করল এনজিও কর্মী।”
এ ছাড়া কুমিল্লার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘কুমিল্লা প্রতিদিন’-এ এ ঘটনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন মতে, কুমিল্লা শহরের সদর গোয়ালপট্টি এলাকায় কিস্তির টাকা পরিশোধে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে বেসরকারি সংস্থা ‘পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি’র কয়েকজন মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে এক দম্পতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিনা রানী সাহা পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তিনি মাসে ৮ হাজার টাকা করে ছয়টি কিস্তি পরিশোধ করেন। তবে পরবর্তী তিনটি কিস্তি সময়মতো দিতে পারেননি।
ঘটনার রাতেই কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তার স্বামী শ্যামল চন্দ্র সরকার। অভিযোগপত্রে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়। তারা হলেন মিরাজ হোসেন, রাহিদ, ইতি দেবনাথ ও রোকসানা আক্তার। অভিযুক্তদের মধ্যে ইতি দেবনাথ নিজেও হিন্দু। শ্যামল চন্দ্র সরকার অভিযোগ করেন, ইতি দেবনাথ ও রোকসানা আক্তার তার স্ত্রীকে মারধর করেন।
প্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড দিয়ে খোঁজ করে বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদভিত্তিক ফেসবুক পেজে এ ঘটনা নিয়ে আরও পোস্ট পাওয়া যায়। ‘দৈনিক সকাল’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় চারজন এনজিও কর্মী তাকে মারধর করেন।
অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওটি কোনো ধর্ষণের ঘটনার নয়। এটি কুমিল্লায় ঋণের কিস্তি পরিশোধে দেরি হওয়াকে কেন্দ্র করে এনজিও কর্মীদের বিরুদ্ধে এক দম্পতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগের ঘটনার ভিডিও।