Image description

জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে মূল কর্মসূচির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক ঘিরে চলমান বিতর্ক। গ্রাহক সমাবেশে পুলিশের হামলার অভিযোগ, নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে আপত্তি এবং ব্যাংক দখলের আশঙ্কাসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বক্তব্যে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এ বিক্ষোভ সমাবেশে সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ছিল আলোচনার প্রধান বিষয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি সরকারকে ‘ব্যর্থ সরকার’ হিসেবে অভিহিত করেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের সঙ্গে ওয়াদাভঙ্গ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট ও দলীয়করণের কারণে জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না’— উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার।

সম্প্রতি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার পূর্বঘোষিত অবস্থান থেকে সরে এসে কয়েক মাসের ব্যবধানে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে শিল্প, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে। বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি, সিস্টেম লস ও ক্যাপাসিটি চার্জের নামে অপচয় বন্ধ করে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।

সমাবেশে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। বললেন, ‘মতিঝিলে গ্রাহকদের কর্মসূচিতে যে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে তার জবাব সরকারকে দিতে হবে।’

তার দাবি, ‘অতীতে এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছিল এবং বর্তমানে নতুন করে ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বেড়েছে। একই সঙ্গে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে নতুন ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেছেন, ‘গ্রাহক ও কর্মচারীদের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’

সমাবেশে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ইয়াসিন আরাফাত, মোবারক হোসেন ও ঢাকা উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। তারা তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিকে ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন জামায়াত নেতারা।

জামায়াত নেতারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশে বারবার মূল্যবৃদ্ধি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

সমাবেশে সরকারের বিভিন্ন খাতের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, চামড়া খাতের সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়েও সমালোচনা করা হয়।

‘জনগণের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে না এলে গণ-আন্দোলনের মুখে পড়তে হবে’— উল্লেখ করেন জামায়াত নেতারা।