সমালোচনার মুখে উপজেলা হাসপাতালে ট্রেইনি চিকিৎসকদের দুই বছরের জন্য বাধ্যতামূলক কর্মরত থাকার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার। একইসঙ্গে বেসরকারি এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের মেধারভিত্তিতে এক হাজার জনকে ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্সের (বিসিপিএস) ভারপ্রাপ্ত সচিব অধ্যাপক ডা. কোহিনুর বেগম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ মে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখা কর্তৃক এফসিপিএস প্রথম পর্ব উত্তীর্ণ প্রশিক্ষণার্থীদের উপজেলায় পদায়ন ও ভাতা প্রদানসংক্রান্ত নীতিমালা জারি করার পর সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিসিপিএস কর্তৃপক্ষের সফল আলোচনার ভিত্তিতে উপজেলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের বিষয়টি বাতিলপূর্বক সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, কলেজের এফসিপিএস প্রথম পর্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীরা বিসিপিএস কর্তৃক স্বীকৃত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী সব প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ ভাতার আওতাভুক্ত হবেন।
তবে সংশোধিত নীতিমালা যাচাই করে দেখা গেছে, নীতিমালায় এক হাজার প্রশিক্ষণার্থীর কথা বলা থাকলেও সংশোধনের পর সেখানে ‘২০০০ জন (কম/বেশি)’ শব্দ যুক্ত করা হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালায় আগের নীতিমালা থেকে উপজেলাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে প্রজ্ঞাপনটি জারি হলে চিকিৎসকেরা সমালোচনা করে বলেন, উপজেলা পর্যায়ে এখনও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামোয় ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। একইসঙ্গে নারী চিকিৎসকদের সামাজিক ও পারিবারিক জটিলতাও রয়েছে। এমন অবস্থায় স্থানীয় পর্যায়ে ট্রেইনি চিকিৎসকদের সেবাদান বাধ্যতামূলক করলে দক্ষ চিকিৎসক গড়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে।