Image description

বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় আধিপত্যবাদ নির্মূলের দাবি জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ বলেছে, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে ভারতীয় আধিপত্যবাদ বাঁচতে দেয়নি। এই আধিপত্যবাদ নির্মূল করতে না পারলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।’

আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা জড়িত থাকতে পারে বলেও দাবি করে ইনকিলাব মঞ্চ।

আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাদির হত্যার বিষয়ে বক্তব্য দিলেও তিনি কোথাও বলেননি যে ‘ভারত উত্তাল হবে’। বরং তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ হলে বাংলাদেশেই উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে।

জাবেরের ভাষ্য, ‘মমতার এই বক্তব্য থেকেই ধারণা করা যায়, দেশের ভেতরের কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে। এমনকি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংশ্লিষ্টরা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কেউ হতে পারেন অথবা এমন কোনো সংস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন, যারা দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে ভারতের সঙ্গে আপস করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জাবের। তিনি বলেছেন, ‘ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে খুনিরা পালিয়েছে বলে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের জন্য পরিচিত একটি রুট। তবে বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সীমান্ত সিল করার কথা থাকলেও কেন রাত ১০টা পর্যন্ত সময় লেগেছে, সে বিষয়ে বিজিবি প্রধানের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।’

এ সময় ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর হাদির সাম্প্রতিক দুটি ফেসবুক পোস্ট প্রসঙ্গে জাবের বলেন, এসব পোস্ট ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে আলোচনা করে দেওয়া হয়নি। তিনি (ওমর হাদি) নিজ উদ্যোগেই সেগুলো দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তিনিই ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।

জাবের আরও জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনা বা সমঝোতা হওয়া স্বাভাবিক। তার দাবি, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—উভয় দলই শহীদ ওসমান হাদির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনকে ঘিরে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, ইনকিলাব মঞ্চ তাদের উত্থাপিত প্রশ্নগুলো প্রথমে ডিবি এবং পরে সিআইডির কাছে জমা দিয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব তথ্যও সরবরাহ করেছে। এখন তদন্ত সংস্থাগুলোর ওপরই নির্ভর করছে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন।