Image description

চট্টগ্রামে হঠাৎ রাজপথে শক্তি দেখাতে তৎপর হয়ে উঠেছে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ। ঝটিকা মিছিলের সংখ্যা বাড়ছে। ক্রমেই বড় হচ্ছে মিছিলের আকার। তাদের এমন তৎপরতা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। ছাত্রলীগের পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে নগরী জুড়ে চলছে এখন বিশেষ অভিযান।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদের ভাষ্য, নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলের ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৭০ জনকে করা হয়েছে গ্রেপ্তার। সন্ত্রাস দমন আইনে দুটি মামলা করা হয়েছে এ ব্যাপারে।

মাঠপর্যায়ে পুলিশকে ‘সার্বক্ষণিক সতর্ক’ থাকার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেছেন, ‘নিষিদ্ধ সংগঠনকে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। মাঠপর্যায়ে পুলিশকে অ্যালার্ট করা হয়েছে। এখন থেকে তারা সবসময় সতর্ক থাকবে। নিষিদ্ধ সংগঠন যাতে কিছু করতে না পারে।’

গত সোমবার সকালে নগরীর পাঁচলাইশ থানার সানমার ওশান সিটি শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে মিছিল বের হয় নগরীর ‘ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ/ছাত্র সংসদের’ ব্যানারে। মিছিলে ১০০-১৫০ জন অংশ নেন। গত ২২ মাসে চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের এত বড় মিছিল আর হয়নি।

 

মিছিলের ব্যানারে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের পাশাপাশি ওই কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চুর ছবি দেখা যায়। পরে ওই মিছিলের ভিডিও নওফেল ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে পোস্টও করেন।



মিছিলের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর সরব হন চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা। নগরীর পাঁচলাইশ ও খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আহমেদ উল আলম চৌধুরী রাসেল।

 

নগর যুবদলের সাবেক সহসভাপতি সাহেদ আকবর ফেসবুকে দেওয়া একাধিক পোস্টের মধ্যে একটিতে উল্লেখ করেন, ‘যে থানায় ফ্যাসিস্টদের মিছিল হবে ওই থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে। থানায় ফ্যাসিস্টদের জন্য বিএনপির যে নেতা তদবির করবেন, তাকেও গ্রেপ্তার করতে হবে।’

ফেসবুকে প্রতিক্রিয়ার মুখে কমিশনার দ্রুত বিশেষ অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন বলে জানালেন সিএমপির এক কর্মকর্তা, ‘রাত থেকে ১৬ থানা জুড়ে অভিযান চলছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, এখন থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন মিছিল করলেই সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করা হবে। এতদিন তারা ছয়-সাতজন মিলে মিছিল করত। এজন্য সিএমপি অতটা গুরুত্ব দেয়নি। এখন মামলা দেওয়া শুরু হয়েছে, এবার ভয় পাবে।’

 

নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে বলে জানালেন সিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল হক, ‘মিছিলটা হয়েছে পাঁচলাইশ থানা এলাকায়। এজন্য পাঁচলাইশে একটা মামলা হয়েছে। খুলশীতে আগের একটি ঘটনা নিয়ে মামলা হয়েছে। দুটিই সন্ত্রাস দমন আইনে। পাঁচলাইশে মিছিলের ঘটনায় খুলশী থানায় ১৩ ও পাঁচলাইশে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান চলছে।’



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণআন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ অক্টোবর ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ২০২৫ সালের ১২ মে আওয়ামী লীগ ও সব সহযোগী সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অন্তর্বর্তী সরকারের এসব আদেশের আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে।



তবে নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম নগরীতে ২০২৫ সালের শুরু থেকে গত ১৭ মাসে অর্ধশতাধিক ঝটিকা মিছিল করেছে। শুরুতে মিছিলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা হাতেগোনা ছিল। তবে ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর থেকে মিছিলে অংশগ্রহণকারী বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি হয়েছে দৃশ্যমান। গত মাসে নগরীর সিআরবি ও ডিসি হিলে হয়েছে দুটি মিছিল, যেখানে অর্ধশত নেতাকর্মী ছিলেন। এরপর এমইএস কলেজের মিছিলটি হয়েছে আরও বড় আকারে।