দীর্ঘ ৩৮ বছর নিখোঁজ থাকার পর পরিবারের কাছে ফিরেছেন জবেদ আলী (৮০) নামে এক বৃদ্ধ। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামুন্দী গ্রামে তার আকস্মিক ফিরে আসাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা যেমন আবেগাপ্লুত, তেমনি প্রতিবেশীরাও ভিড় করছেন তাকে একনজর দেখতে।
জবেদ আলী বামুন্দী গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হকের ছেলে। গত ১ জুন বিকেলে তিনি হঠাৎ বাড়িতে ফিরে আসেন। তবে এত বছর কোথায় ছিলেন বা কীভাবে জীবন কাটিয়েছেন, সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেন না। পরিবারের সদস্যদের দিকে নির্বাক তাকিয়ে থাকাই যেন এখন তার একমাত্র ভাষা।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, প্রায় চার দশক আগে যৌবন বয়সে তিনি নিখোঁজ হন। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর একসময় তারা ধরে নিয়েছিলেন, জবেদ আলী আর বেঁচে নেই। তাই হঠাৎ তার ফিরে আসার ঘটনায় পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা।
জবেদ আলীর স্ত্রী রুশিয়া বেগম বলেছেন, ‘আজ থেকে ৩৮ বছর আগে আমার স্বামী নিখোঁজ হন। তখন তার বয়স কম ছিল। দেশের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত খুঁজেও তাকে পাইনি। ভেবেছিলাম, আর কোনোদিন ফিরবে না। মহান আল্লাহ আবারও তাকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিয়েছেন।’
ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ‘আমি তখন খুব ছোট ছিলাম। বাবার কথা আবছাভাবে মনে পড়ত। বাবা ফিরে এসেছে, এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।’
জবেদ আলীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তিনি নিজের অতীত বা দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
স্থানীয়রা জানান, জবেদ আলী স্বভাবতই শান্ত ও নির্জনপ্রিয় মানুষ ছিলেন। একা থাকতে পছন্দ করতেন। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তখন এলাকার মানুষও কষ্ট পেয়েছিলেন। ৩৮ বছর পর তার ফিরে আসা তাদের কাছেও বিস্ময়কর ঘটনা হয়ে উঠেছে।