Image description

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজার শ্যালক ও গাড়িচালকের ওপর হামলার ঘটনায় জীবননগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতে তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরও ১-২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে এই এজাহারটি দায়ের করা হয়। অভিযোগে মূলত হর্ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, মারধর, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকির বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জীবননগর থানার ওসি সোলাইমান শেখ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই ঘটনায় তিনজনকে নামীয় আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মামলার বাদী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক (২৬) কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) এবং সম্পর্কে তার শ্যালক। মামলায় নামোল্লেখ করা আসামিরা হলেন জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারপাড়ার মোস্তাক হোসেন, হাসাদাহ গ্রামের রিমন হোসেন এবং পুরন্দরপুর গ্রামের মাশরুল মুহিব।

 

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সংসদ সদস্য আমির হামজা পৃথক একটি গাড়িতে ছিলেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী তামান্না সুলতানা তানি, দুই সন্তান এবং শ্যালক আবু বক্কর সিদ্দিক অপর একটি গাড়িতে করে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে জীবননগরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারের প্রধান সড়কে ওঠার সংযোগস্থলে একটি ইজিবাইক রাস্তার মুখে দাঁড়িয়ে থাকায় তাদের গাড়ির গতি থেমে যায়। এ সময় বারবার হর্ন দেওয়ার পরও ইজিবাইকটি না সরালে গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেন নিচে নেমে চালককে গাড়িটি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেন। এতে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হলে পরিস্থিতি শান্ত করতে আবু বক্কর সিদ্দিক গাড়ি থেকে নেমে ইজিবাইক চালককে চলে যেতে বলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ করেই অভিযুক্ত ব্যক্তিসহ আরও কয়েকজন সেখানে জড়ো হয়ে তাদের পথরোধ করে।

অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত মোস্তাক হোসেন প্রথমে বাদীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে রিমন হোসেন তার বাম চোখের নিচে ঘুষি মারেন ও মাশরুল মুহিব নাকের ওপর সজোরে আঘাত করেন। এরপর অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে আবু বক্কর সিদ্দিক ও গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেনকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর আহত করেন।

 

ঘটনার সময় গাড়িতে থাকা সংসদ সদস্যের স্ত্রী নিজের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং খুন-জখমের হুমকি দেন। কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর আহতরা জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে সংসদ সদস্যের স্ত্রী তামান্না সুলতানা তানি, মনিরা সুলতানা সনি এবং ইমরান হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।