Image description

হাজারো মানুষের শ্রদ্ধায় নিজ গ্রামের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ। ভোলা সদরের দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয় আওয়ামী লীগের এই সাবেক মন্ত্রীকে।

মঙ্গলবার দুপুরে তার মরদেহ হেলিকপ্টারে আনা হয় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। রোদের তীব্র তাপের মধ্যেও সেখানে নামে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের ঢল।

নয়বারের এই সংসদ সদস্যকে সেখানে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। পরে ভোলা খলিফাপট্টি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জমির উদ্দিন তার জানাজার নামাজ পড়ান।

নাজায় অংশ নেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারাও। 

জানাজা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে তোফায়েল আহমেদের নিজ বাড়িতে। স্থানীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় জানাজা। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা আবেগঘন পরিবেশে তার স্মৃতিচারণ করেন।

জানাজা ও দাফন ঘিরে পুরো এলাকায় দেখা যায় পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তা। 

১৯৬৮-৬৯ মেয়াদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় শেখ মুজিবের রাজনৈতিক সচিব, সংসদ সদস্য ও দীর্ঘ সময় মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন।

১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। লাখো জনতার এই সম্মেলনে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি পান শেখ মুজিব। আর এই উপাধি ঘোষণা দিয়েছিলেন তোফায়েল আহমেদ।

বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। গতকাল সোমবার বিকালে থেমে যায় তার  ৮২ বছরের ঘটনাবহুল জীবন।