বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সরকার বেশকিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, যার সরাসরি সুফল ইতোমধ্যে দেশবাসী পেতে শুরু করেছেন।
ক্ষমতায় এসেই বিএনপি সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সরকারের ১০০ দিনের মধ্যে ২০ হাজার ৭৪৮ জনকে ‘কৃষক কার্ড’ দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পহেলা বৈশাখে দেশের আট বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করেন। প্রথম দফায় ২২ হাজার ৬৫ জনকে কৃষক কার্ড দেওয়া হবে।
কৃষক কার্ডের সুবিধা
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষক কার্ড হবে একটি ডিজিটাল ইউনিক পরিচয়পত্র, যা কৃষকদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সেবা ও প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। কৃষি খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি হ্রাসও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
আগামী পাঁচ বছরে ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সেবা কৃষকদের নিকট পৌঁছে দেওয়া হবে, যেমন—ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি, মৎস্য চাষ/আহরণ, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালনের উপকরণ বিতরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান, স্বল্প মূল্যে কৃষি খামারের যন্ত্রপাতি প্রাপ্তির সুবিধা, ন্যায্য মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ বিতরণ, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিমা সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষি পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের সুবিধা, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া, গবাদিপশুর রোগের প্রাদুর্ভাব ও বাজার তথ্য প্রাপ্তিসহ ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ প্রদান।
কৃষি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত, যার আওতায় শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১১ শতাংশ ও মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪২ শতাংশ এ খাতে নিয়োজিত রয়েছে। দেশে প্রায় ১ কোটি ৬৯ লাখ কৃষি খানা রয়েছে, যাদের প্রধান জীবিকাই কৃষি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনায় বাংলাদেশে এই প্রথম বিস্তৃত সেবা নিয়ে ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদকে অন্তর্ভুক্ত করে সার্বজনীন কৃষক কার্ড প্রবর্তনের অনন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকার ঘোষিত কৃষির অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য উপখাতসমূহের কৃষকরা যেমন— লবণচাষিরাও কৃষক কার্ডের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি দেশের কৃষকদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয়, যা লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি প্রদান, প্রযুক্তিগত পরামর্শ, কৃষি উপকরণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা তথা কৃষকের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি ও কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক সকল সেবা এক ছাতার নিচে প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের এক যুগান্তকারী উদ্যোগ। কৃষক কার্ড শুধুমাত্র একটি কার্ড নয়, এটি হবে বাংলাদেশের প্রতিটি কৃষকের ন্যায্য অধিকারসহ মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক, যেখানে কৃষক থাকবেন সবচেয়ে অগ্রাধিকার ও সম্মানের আসনে।
১০০ দিনে কৃষক কার্ডসহ যেসব ক্ষেত্রে সরকারের উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে সেগুলো হলো- ৫৩ হাজার ৯৬টি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান, শতভাগ শিশুকে হামের টিকাদান, ৬৬৬টি খাল খনন ও সংস্কার, প্রায় ৬ হাজার ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রধানদের মাসিক ভাতা, ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ, পদ্মা ব্যারাজের চূড়ান্ত অনুমোদন, যুদ্ধকালীন ব্যবস্থায় ভর্তুকির মাধ্যমে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সি ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, ৫৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ, ভূমিসংক্রান্ত পরিষেবায় অটোমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, ১৪টি বোয়িং যুক্ত করে বিমানবহর সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে চুক্তি স্বাক্ষর, ১৫২ জুলাই যোদ্ধাকে রাশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা, ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে মাসিক ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ, প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মেট্রোরেল ও ট্রেনে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড়সহ নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।