সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে সরানোর কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ৮ ঘণ্টায় এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্ধারিত সময়ের আগেই বর্জ্য অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিলেও শুক্রবার (২৯ মে) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
ঈদের পরদিন শুক্রবার সরেজমিনে রাজধানীর দুই সিটির মোট ২৯টি জায়গায় বর্জ্য পড়ে থাকার দৃশ্য চোখে পড়ে।
ঢাকা উত্তর সিটির আওতাধীন মিরপুর-১১, সাংবাদিক আবাসিক এলাকা, মিরপুর ১০/ডি, সেনপাড়া পর্বতা, বেগম রোকেয়া সরণির পূর্ব মণিপুর, শাহজাদপুর এবং গুলশান ও বনানীর বেশ কয়েকটি সড়কে কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওতাধীন ধানমন্ডি, জিগাতলা, হাজারীবাগ, গণকটুলী, চকবাজার, বকশীবাজার এবং নাজিরাবাজার এলাকার বিভিন্ন সড়কেও বর্জ্যের স্তূপ পাওয়া গেছে।
শান্তিনগরের বাসিন্দা বাবুল হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশন বলেছিল রাতের মধ্যেই সব পরিষ্কার হবে। কিন্তু শুক্রবার দুপুরেও রাস্তায় ময়লা পড়ে আছে। দুর্গন্ধে চলাফেরা করাই কঠিন হয়ে গেছে।
ঈদের দিন থেকেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করে। দক্ষিণ সিটির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানিয়েছিলেন, ৮ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য সরিয়ে ফেলা হবে।
অপরদিকে উত্তর সিটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছিলেন, সরকার নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার আগেই কাজ শেষ করা হবে।
এদিকে শুক্রবার সকালে শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির অস্থায়ী পশুর হাট পরিদর্শনে গিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, দ্বিতীয় দিনেও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরদারভাবে চলছে। এদিন ১১ হাজার ৭৭৬ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ঈদের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮১৪ টন কোরবানির বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, পরিবহন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।