ঈদুল আজহার কোরবানির হাট শেষ হওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন হাট থেকে ট্রাকে ট্রাকে অবিক্রীত গরু ফিরছে। রাজধানীর ঢাকার গাবতলী, কমলাপুর, দিয়াবাড়ীসহ বিভিন্ন অস্থায়ী হাটে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বড় গরুর সারি পড়ে থাকতে দেখা যায়। ক্রেতার অভাবে লোকসান মেনে অনেক খামারি ও ব্যবসায়ী গরু বিক্রি করলেও অনেকে আবার অবিক্রীত পশু ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার। এর মধ্যে ১ কোটির কিছু বেশি পশু কোরবানি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ পশু অবিক্রীত থেকে গেছে।
খামারি ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, বড় গরুর চাহিদা হ্রাস এবং সীমান্ত দিয়ে ভারত ও মিয়ানমার থেকে অবৈধ গরু প্রবেশের কারণে বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও কাদাময় হাট পরিবেশ বিক্রিকে আরও কঠিন করে তোলে।
মানিকগঞ্জ থেকে গাবতলী হাটে ৫০টি গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিক্রি করতে পেরেছি মাত্র ১৮টা। বাকিগুলো ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে। এবার আমরা গরুর সঙ্গে নিজেরাও কোরবানি হয়ে গেছি।’
বগুড়া সদর থেকে ২৫টি গরু নিয়ে আসা খামারি মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সব গরুই বড় ছিল। সবগুলোই লোকসানে বিক্রি করেছি। যে গরুর পেছনে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, সেটি ঢাকায় এনে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে।’
বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনর সিনিয়র সহসভাপতি নিলয় হোসেন বলেন, মানুষের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় কোরবানি কিছুটা কমেছে। তার ভাষায়, বড় গরুর বাজার প্রায় ভেঙে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ৯৮ শতাংশ কোরবানিতে ছোট গরু ব্যবহৃত হয়, যা মূলত প্রান্তিক খামারিরা উৎপাদন করেন। বড় করপোরেট খামারগুলোর উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় তারা ছোট গরুর উৎপাদনে যায় না।
মো. শাহজামান খান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরর মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), বলেন এখনও কোরবানি হওয়া পশুর চূড়ান্ত হিসাব প্রস্তুত হয়নি। মাঠপর্যায় থেকে তথ্য আসছে।
শীর্ষনিউজ