Image description

‘সারা দিন আমরা ঈদের আনন্দ করেছি। রাতে ইরাক থেকে আমাদের ফোনে কল আসে। আমাদেরকে জানানো হয় আমার বাবা গেছেন। আমি কোনোভাবে বিশ্বাস করতে পারছি না বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।’

 

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে কথাগুলো বলছিলেন একাদশ শ্রেণি পড়ুয়া রাফিয়া জান্নাত। তিনি ইরাক প্রবাসী জাহিদুল সরদারের কন্যা। তাদের বাড়ি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের গোদাশিমুলিয়া গ্রামে।

 

পরিবার জানায়, বাংলাদেশে ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার জাহিদুল সরদার ইরাকে মারা গেছেন। বাংলাদেশ সময় রাত একটার দিকে অসুস্থ হয়ে পড়লে সহকর্মীরা তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাত দুইটার দিকে তার পারিবার মৃত্যুর সংবাদ পান।

 

 

জাহিদুল সরদারের কন্যা রাফিয়া জান্নাত বলেন, ‘বাবা আমাদের জন্য কত কষ্ট করতেন। প্রতিদিন কল দিয়ে খোঁজ নিতেন। আমাকে বলতেন তোদের ভালো ভবিষ্যতের জন্য এত দূরে আছি। শেষ বারের মতো বাবাকে দেখতে চাই।’

 

তার স্ত্রী উজুফা বেগম বলেন, ‘নিজের সুখের কথা কোনোদিন ভাবেনি। শুধু পরিবার আর ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যতের চিন্তা করত। সংসারটা তার আয়েই চলত। হঠাৎ কইরা সে নাই হয়া গেল। সরকারের কাছে দাবি জানাই লাশটা যেন দেশে আনা হয়।’

 

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, তারা যেন দূতাবাসে যোগাযোগ করেন। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। লাশ দেশে আনার ব্যাপারে দূতাবাসকে চিঠি দেওয়া হবে।